এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর কলম্বিয়ার জাতীয় রাজনীতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে যে, অপরাধী চক্র এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। এর কেন্দ্রে রয়েছেন কলম্বিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (ডিএনআই) গোয়েন্দা পরিচালক উইলমার মেজিয়া এবং সেনাবাহিনীর পারসোনেল কমান্ডের প্রধান জেনারেল জুয়ান মিগুয়েল হুয়ের্তাস।
ফাঁস হওয়া অসংখ্য চ্যাট, অডিও রেকর্ড এবং আলোকচিত্রে দেখা গেছে যে, এই কর্মকর্তারা বিদ্রোহীদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছেন। এমনকি অপরাধ জগতে উইলমার মেজিয়া 'এল চালো' নামে পরিচিত এবং তিনি অপরাধী সংগঠন ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বিদ্রোহীরা যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেজন্য সরকারি সাঁজোয়া যান ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।
এর বিনিময়ে ক্যাটাতুম্বো এবং দক্ষিণ বলিভার অঞ্চলে সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের একটি অঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, জেনারেল হুয়ের্তাস এবং মেজিয়া সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গোপনীয় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি কোড বিদ্রোহীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এর ফলে বিদ্রোহীরা আগে থেকেই সামরিক অভিযানের খবর পেয়ে যেত এবং সংঘর্ষ এড়াতে সক্ষম হতো।
এছাড়া, ভেনেজুয়েলায় অস্ত্রের কারখানা স্থাপন এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে স্বর্ণ ও কৃষি প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। এই কেলেঙ্কারিতে অ্যাটর্নি জেনারেল লুজ আদ্রিয়ানা কামার্গোর ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এক বছর আগে সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্টে 'কালারকা'র কনভয় থেকে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যেখানে এই ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত তথ্য ছিল।
কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে সেই তদন্ত ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং শান্তি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যান্টিওকিয়ার গভর্নর মন্তব্য করেছেন যে, জড়িতদের নাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জেনারেল হুয়ের্তাসের পুনর্বহাল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বরখাস্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট পেট্রো কেন তাকে পুনরায় নিয়োগ দিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের সমালোচকরা বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযানের নামে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিতর্কিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্তদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইভান ভ্লাসকেজ এবং ডিএনআই-এর প্রধান জর্জ লেমুস দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রদোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে গোয়েন্দা প্রধান দাবি করেছেন, তিনি এই গোপন মিশনের বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখার পরই তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনা কলম্বিয়ার বর্তমান সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।