এই চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারটি দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ক্যারেন সান্তোস দাবি করেছেন, বিয়ের শুরু থেকেই তিনি লেইভার দ্বারা চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, তার স্বামী মদ্যপ অবস্থায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষে পরিণত হতেন এবং তাকে নির্মমভাবে মারধর করতেন। নির্যাতনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, তাকে একাধিকবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
এমনকি আঘাতের কারণে তাকে পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার এবং স্নায়বিক চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্বামীর প্রহারের ফলে বর্তমানে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম হয়েছে। অভিযোগের সপক্ষে তিনি ম্যাগাজিনটির কাছে নির্যাতনের ভিডিও, অডিও রেকর্ড, ছবি এবং মেডিকেল রিপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।
সান্তোসের বর্ণনামতে, নির্যাতনের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় চলতি বছরের ১৭ জুলাই। সেদিন তাকে ছুরি নিয়ে ধাওয়া করেছিলেন লেইভা। প্রাণভয়ে তিনি যখন সাহায্যের জন্য আবেদন করেন, তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে সাহায্য করার পরিবর্তে উল্টো লেইভার পক্ষ অবলম্বন করেন। পুলিশ তার কাছে ফোন জমা দেওয়ার দাবি জানায় এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই বলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
তবে সান্তোস যখন জানান যে তিনি একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক এবং তিনি আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন করবেন, তখনই কেবল পুলিশের আচরণে পরিবর্তন আসে এবং তারা লেইভাকে সরে যেতে বলে। সেই রাতেই তিনি নথিপত্র ও অর্থ ছাড়াই কোনোক্রমে পালিয়ে আসেন। এই ঘটনার পরেও নির্যাতন থামেনি বলে অভিযোগ করেছেন সান্তোস। তিনি জানান, বিচ্ছেদের পরেও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বেনেডেটির সাথে লেইভার বিতর্কিত বাড়ির বিনিময় প্রসঙ্গে সান্তোস স্পষ্ট করেন যে, তিনি স্বামীকে ‘পরিত্যাগ’ করেননি, বরং প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। লেইভা যখন তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুমকি দেন, তখনই তিনি নীরবতা ভেঙে সত্য প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা ক্যারেন সান্তোস জানান, বেঁচে না থাকলে বিশ্ববাসী কখনোই জানত না তার সাথে কী ভয়াবহ অন্যায় হয়েছে।