পরে সেই সভার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচার বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ অংশগ্রহণ করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সভায় আন্দোলনকারীদের এক দফা দাবির বিরোধিতা এবং শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন বক্তা মতামত প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম সূচনা বক্তব্যে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জুম সভা আয়োজনের কারণ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবদুল বাতেন চৌধুরী ব্যাখ্যা করবেন এবং পরে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সবাই বক্তব্য দেবেন।
এরপর শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবদুল বাতেন চৌধুরী বলেন, দেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এবং এ সময়ে সবার একটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের ঘোষিত এক দফার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং তিনি সেই আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনার হাতেই উদ্বোধন হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাঁর বক্তব্যে শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও উঠে আসে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন ছাড়া উপস্থিত অধিকাংশ বক্তাই শিক্ষক সমিতির সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
তৎকালীন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দিল আফরোজ খানম বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, গত দুই দিন ধরে তাঁর কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে এবং তাঁর বিশ্বাস, সে সময়ে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প ছিল না।
অন্যদিকে, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। ভিডিওতে তিনি আন্দোলনের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি বলেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ভাইরাল হওয়া ওই গোপন সভার ভিডিওতে তৎকালীন উপাচার্য, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি দেখা যায়। ঘটনার এক বছর পার হলেও ওই সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এখনো বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।