পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের মা বলেন, “আমার ছেলের কথা যদি বলতে যাই, সারা জীবনেও শেষ হবে না। আমার ছেলে এমন একটা ছেলে ছিল, তার মতো দ্বিতীয় কেউ হতে পারবে না। এত বড় আয়োজন করে সম্মাননা দেওয়ার জন্য আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, “কাইয়ুম আমার সরাসরি ছাত্র, আমি তাকে পড়িয়েছি। ৫ আগস্ট ঢাকার কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে সে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ৬ আগস্ট শহীদ হয়। তার জানাজায় আমি উপস্থিত ছিলাম।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে, বিভাগের পক্ষ থেকে এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা তার পরিবারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। আমার প্রত্যাশা থাকবে, এই পরিবারকে আমরা যেন কখনো ভুলে না যাই।
সবাই যার যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। জুলাইয়ের যে অভ্যুত্থান, তার যে ফলশ্রুতি, তার যে আবেগ এবং যে প্রত্যাশা, তা পূরণ করার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।”
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “শহীদ কাইয়ুমের মা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাদের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। আমরা চাই এই অভ্যুত্থানকে, এই দিবসকে আমরা স্মরণ করি। যারা শহীদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তাদের জন্য দোয়া করি এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করি।
আপনারা আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমাদের সময় দিয়েছেন, এজন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।” উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন ছিল তরুণ সমাজের জেগে ওঠা। বেসরকারি ও সরকারি-সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তারা রাজপথ ছাড়েনি।” তিনি বলেন, “হাজারো ছাত্রী, হাজারো বোন এবং হাজারো মা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আমরা দেখেছি, প্রয়োজনে মেয়েরাও ভাইয়ের লাশের খাটিয়া কাঁধে নিয়ে প্রতিবাদ করেছে। আমাদের মেয়েরা পুলিশ ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, অন্যায়কে বাঙালি জাতি কখনো মেনে নেয় না। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।”