একই সঙ্গে অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগমের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার তথ্যও জানিয়েছেন তিনি। বিষয়গুলোর সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন নাহিদা বেগম।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্ত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা।
তিনি বলেন, আমি গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত ম্যাডামের সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে কিছু কথা জানিয়েছেন। চারজন অভিযুক্তকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ফাহাদ। সে প্রায় ১০ দিন আগে ম্যাডামের স্বামীর অফিসে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছে।
এ ছাড়া ম্যাডাম যখন সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় তিনি কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন।
তাদের মধ্যে দুজন নাকি তুহিনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল ড.কামরুন নাহাত শীলা বলেন, ম্যাডাম চান, পুলিশ তদন্ত করে বিষয়টি বের করুক-এই প্রতিশোধের জেরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না।
একই সঙ্গে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা আদৌ অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না। তা ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ছাড়া ম্যাডাম জোর দাবি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপরাধীদের যেন উপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করা হোক।
এর আগে, রবিবার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান এবং মো. সিয়াম (১৯) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। তার বাবার নাম নুরে আলম এবং মায়ের নাম শিরিনা আক্তার। তার ঠিকানা সানন্দা (মৈশান বাড়ি), ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, সদর দক্ষিণ থানা, কুমিল্লা।
কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২৫ সালে ফেল করে ড্রপআউট হয় তুহিন। বর্তমানে সে পড়ালেখা করে না। দ্বিতীয় আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫)। তার বাবার নাম মমিন হোসেন এবং মায়ের নাম জুলি আক্তার। ঠিকানা সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি), ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, সদর দক্ষিণ থানা, কুমিল্লা।
ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহাদ। তৃতীয় আসামি মো. কামরুল হাসান। বাবা মো. আব্দুল কুদ্দুস এবং মা নাম কুলসুম আক্তার। তার ঠিকানা হাতিগাড়া, কালিবাজার, কোতোয়ালি, কুমিল্লা। চতুর্থ আসামি মো. সিয়াম (১৯)।
তার বাবার নাম মো. সেলিম মিয়া এবং মায়ের নাম শিরিনা আক্তার। তার ঠিকানা এলাহীপুর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা। আফজাল খান ডিগ্রি কলেজ, দৌলতপুর, কোতোয়ালি, কুমিল্লার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সিয়াম। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, চাঞ্চল্যকর অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখা ও পর্যালোচনা করা হয়। এতে অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। অপ্রতীমের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার আগেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে যে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। তুহিন আরও জানায়, এ ঘটনায় ফাহাদ ও ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। পরে ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়।