সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, টুর্নামেন্ট বন্ধ ঘোষণা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

ইবিতে আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, টুর্নামেন্ট বন্ধ ঘোষণা।
ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলমান আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে  প্রথমে  হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর ফার্মেসি ও বায়োমেডিকেল বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

এতে খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত দশ জনের অধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব ঘটনার আয়োজক কমিটি অনিদির্ষ্টকালের জন্য টুর্নামেন্ট বন্ধ ঘোষণা করে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে ম্যাচ চলাকালীন এসব ঘটনা ঘটে।

 

আহতদের মধ্যে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. আলিফ খান, আলিফ রাহাত, ইয়াসিন আরাফাত, তোফাজ্জল চৌধুরী, সিয়াম খন্দকার এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আবু রায়হান রয়েছেন।

 

অন্যদিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সোহাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের হিমেল এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ূন কবির আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হুমায়ূন কবির গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ম্যাচের শেষ সময়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। একপর্যায়ে বল মাঠের বাইরে চলে গেলে তা ফেরত দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় দর্শক সারি থেকে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে।

 

পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা দুই বিভাগের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থী ও দর্শকরা লাঠি, বাঁশ ও গাছের ডাল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো মাহমুদুল অভিযোগ করে বলেন, আমাদের একজন খেলোয়াড়রা বল আনতে গেলে প্রতিপক্ষের শিক্ষার্থীরা বল না দিয়ে পেছনের দিকে সরিয়ে দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছিলেন।

 

এর প্রতিবাদ করায় তাদের এক খেলোয়াড়কে আঘাত করা হয় এবং পরে কয়েকজন খেলোয়াড়কে আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, “এরপর তাদের কয়েকজন খেলোয়াড় চেয়ার এবং গাছের ডাল হাতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসেন।

 

একপর্যায়ে পেছন থেকে হামলা করা হলে আমাদের কয়েকজন আহত হন। কারও মাথা ফেটে যায়, কারও হাতে আঘাত লাগে। আমাদের দলের আরিফের মাথাও ফেটে যায়।” ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ মুস্তাকিম হোসেন বলেন, “আমরা পূর্ব পাশের দর্শক সারিতে ছিলাম।

 

বলটি মাঠের বাইরে বাগানের দিকে চলে গেলে আমাদের এক ছোটভাই সেটি দিতে যায়। এ সময় কয়েকজনের পায়ে লেগে বলটি আবার পেছনের দিকে চলে যায়। কিন্তু তারা এটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বল সরিয়ে দেওয়া এবং সময় নষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে নেয়। পরে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

 

একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে আমাদের দিকে ধাওয়া করে এবং মারধর শুরু করে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। একজনের হাত ভেঙেছে, একজনের কপালে আঘাত লেগেছে এবং আরেকজনের চশমা ভেঙে নাকে আঘাত লেগেছে।

 

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমাদের নিয়ে স্লেজিং করা হয়েছিল।” তবে দুই পক্ষের বক্তব্যেই পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি ও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. বদিউজ্জামান বলেন, “খেলাধুলার সময় মারামারিতে আহত কয়েকজন আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সবার অবস্থা মোটামুটি ভালো। বড় ধরনের কোনো ইনজুরি হয়নি।”