আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে অবশেষে খননকাজ শুরু হলো। দেশটির টুয়াম শহরে অবস্থিত সেন্ট মেরি’স মাদার অ্যান্ড বেবি হোমের সাবেক স্থানে সোমবার থেকে প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা প্রায় ৮০০ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন, যাদেরকে কয়েক দশক ধরে একটি বেনামী গণকবরে সমাহিত করে রাখা হয়েছিল। ১৯২৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত বন সিকিউরস অর্ডারের নানদের দ্বারা পরিচালিত এই হোমে অবিবাহিত তরুণী ও কিশোরীদের সন্তানদের জন্ম দেওয়ার জন্য পাঠানো হতো। সেখানে যেসব শিশু মারা যেত, তাদের কোনো প্রকার রেকর্ড বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই গোপনে কবর দেওয়া হতো। কিছু দেহাবশেষ এমনকি একটি পরিত্যক্ত ভূগর্ভস্থ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরেও সমাহিত করা হয়েছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দশকের পর দশক ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। প্রায় এক দশক আগে, ক্যাথরিন করലെസ് নামে একজন স্থানীয় ইতিহাসবিদ অক্লান্ত পরিশ্রমে ৭৯৬টি শিশুর ডেথ সার্টিফিকেট খুঁজে বের করেন, কিন্তু তাদের সমাধির কোনো রেকর্ড খুঁজে পাননি। তার এই গবেষণা ২০১৪ সালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে এলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর ফলে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং অবশেষে এই খননকাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদ, নৃতত্ত্ববিদ এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি আন্তর্জাতিক দল এই অত্যন্ত জটিল কাজটি পরিচালনা করছে। প্রায় দুই বছর ধরে এই খননকাজ চলবে। এর পরিচালক ড্যানিয়েল ম্যাকসুইনি জানিয়েছেন, এটি একটি সাধারণ খননকাজ নয়, বরং একটি ফরেনসিক তদন্তের মতোই পরিচালিত হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য, প্রতিটি দেহাবশেষ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উদ্ধার করা, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা এবং অবশেষে তাদের পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করে একটি সম্মানজনক সমাধি নিশ্চিত করা। এই খননকাজকে আয়ারল্যান্ডের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া শিশু নির্যাতন ও অবহেলার ইতিহাস মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
---