এই ছাড়ের ফলে হাঙ্গেরি 'দ্রুজবা' এবং 'সাউথ স্ট্রিম' পাইপলাইনের মাধ্যমে রুশ তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে পারবে, যা ছিল অরবানের সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই ছাড় এমন এক সময়ে এলো যখন হাঙ্গেরিতে আগামী এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে অরবানকে একজন তরুণ রক্ষণশীল প্রার্থী পিটার ম্যাগয়ারের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে, যিনি সরকারের দুর্বল অর্থনৈতিক রেকর্ড এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে প্রচারণার মূল হাতিয়ার করেছেন।
ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুগেলের সিনিয়র ফেলো জ্যাকব কির্কেগার্ড বলেছেন, "ট্রাম্প নির্বাচনের আগে অরবানকে একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাইফলাইন দিয়েছেন।" এই ছাড়ের ফলে অরবান এখন ট্রাম্পের সাথে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কথা প্রচার করতে পারবেন এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা দিতে পারবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অরবানই ছিলেন একমাত্র ইউরোপীয় নেতা যিনি ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন এবং গত নভেম্বরে ট্রাম্পের জয়ের পর প্রথম অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পও সেই সমর্থনের প্রতিদান দিয়েছেন এবং অরবানকে "মহান নেতা", "ভালো বন্ধু" ও "শক্তিশালী মানুষ" হিসেবে অভিহিত করেছেন। উভয় নেতার রাজনৈতিক এজেন্ডায় অভিবাসন বিরোধিতা এবং সামাজিক রক্ষণশীল নীতির (যাকে তারা 'জেন্ডার মতাদর্শ' এবং 'অতি-প্রগতিশীল' নীতি বলে অভিহিত করেন) মতো বিষয়ে গভীর মিল রয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনের এই ছাড় নিঃশর্ত ছিল না। হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী অরবান ঘোষণা করেন যে, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং পাকস পারমাণবিক কেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ক্রয় করবে। এছাড়া ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছোট আকারের পারমাণবিক চুল্লি কেনার জন্যও হাঙ্গেরি একটি আগ্রহপত্রে স্বাক্ষর করেছে। কির্কেগার্ডের মতে, "আপনি যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কিছু চাইতে যাবেন, আপনাকে উপহার নিয়ে যেতে হবে।"
ওয়াশিংটনে অরবান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। তিনি ট্রাম্পের "শান্তি প্রচেষ্টার" প্রশংসা করে ক্যামেরার সামনে বলেন, "সমস্যা হলো ব্রাসেলস এবং ইউরোপীয়দের, তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পছন্দ করে কারণ তারা এখনও মনে করে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে জিততে পারে। তারা পরিস্থিতি বুঝতে ভুল করেছে।"
উল্লেখ্য, হাঙ্গেরি একাই ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের যোগদান প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় নেতারা, যার মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও রয়েছেন, বলেছেন যে রাশিয়া বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে তারা অর্থপূর্ণ শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নয়।