গত জুনে কাউন্সিল অফ ইউরোপ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এটি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য একাধিক অংশীদারের অর্থায়ন অপরিহার্য। কিন্তু ইউরোপীয় দাতা দেশগুলো এখন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে সমর্থন দেওয়া এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাওয়ার নীতি অব্যাহত রাখবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি সূত্র ইউরোনিউজকে নিশ্চিত করেছে, ওয়াশিংটন থেকে ইউক্রেনের জন্য তহবিল আসা কমে যাওয়ায় এই ট্রাইব্যুনালের বাস্তবায়নই এখন ঝুঁকির মুখে। ইউরোপীয় দেশগুলো উপলব্ধি করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটলে ইউক্রেন সম্পর্কিত আর্থিক, মানবিক এবং সামরিক সহায়তার সিংহভাগ বোঝাই তাদের কাঁধে এসে পড়বে। ফলে, কোন কোন প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে, সে বিষয়ে তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
কাউন্সিল অফ ইউরোপের উপস্থাপিত খসড়া বাজেট অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল পরিচালনার বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরো। নেদারল্যান্ডসে এই ট্রাইব্যুনালের দফতর স্থাপন এবং এর নিরাপত্তা বাবদ খরচ হবে অতিরিক্ত। আশা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বছরে ১০ মিলিয়ন ইউরো অবদান রাখবে।
কাউন্সিল অফ ইউরোপের প্রধান দাতা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে জি-৭ ভুক্ত ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং যুক্তরাজ্য। কিন্তু চারটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দেশগুলো ট্রাইব্যুনালের বার্ষিক অর্থায়নে অংশ নেবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয় এবং তারা এই প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে যুক্তও হচ্ছে না। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইউরোনিউজের পক্ষ থেকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় কমিশনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বিশেষ অনুরোধে এই ট্রাইব্যুনালটি গঠন করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর কাজের পরিপূরক হওয়া। আইসিসি যুদ্ধাপরাধ বা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করতে পারলেও, "যুদ্ধ শুরু করার" (crime of aggression) মতো আগ্রাসনের মূল অপরাধের বিচার করতে পারে না, যে ঘাটতি পূরণের জন্যই এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পরিকল্পনা।