রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুতিনের সঙ্গে অরবানের সাক্ষাৎ, ব্রাসেলসের প্রতি ‘চরম অবজ্ঞা’ ও ইউরোপীয় ঐক্যে বড় ফাটল

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:২৯ পিএম

পুতিনের সঙ্গে অরবানের সাক্ষাৎ, ব্রাসেলসের প্রতি ‘চরম অবজ্ঞা’ ও ইউরোপীয় ঐক্যে বড় ফাটল
ছবি: AP

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান আবারও মস্কো সফর করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি চুক্তি নিশ্চিত করার বিষয়টিকে ব্রাসেলসের প্রতি একটি স্পষ্ট ও শত্রুতাপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

 

ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ইউরোপ যখন রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ, তখন অরবানের এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় ঐক্যের মূলে কুঠারাঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভিক্টর অরবানের এটি চতুর্থ বৈঠক, যা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউরোপীয় নেতারা যখন মস্কোকে এড়িয়ে চলছেন, তখন অরবান সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করছেন।

 

বৈঠকের পর হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজ্জার্তো নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হাঙ্গেরির জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেখানে রুশ জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার প্রাণপণ চেষ্টা করছে, সেখানে বুদাপেস্টের এই অবস্থান জোটের সামগ্রিক নীতির পরিপন্থী। ব্রুগেল থিংক-ট্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞ জ্যাকব কার্কেগার্ডের মতে, অরবানের এই মস্কো সফর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি অপমানজনক বার্তা বা ‘চরম অবজ্ঞা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

 

তিনি মনে করেন, হাঙ্গেরি মূলত ইউক্রেনের জন্য একটি সম্মানজনক শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার ইইউ-এর প্রচেষ্টাকে ভেতর থেকে বাধাগ্রস্ত করছে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে অরবান নিজেকে ইউরোপের ভেতরে পুতিনের ‘ট্রোজান হর্স’ বা গোপন হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন কি না, তা নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজনৈতিকভাবে পুতিনের জন্য অত্যন্ত লাভজনক, কারণ এটি ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে ফাটল ধরাতে সহায়তা করছে।

 

অন্যদিকে, আটলান্টিকের ওপারেও অরবানের কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্যণীয়। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সফরের সময় তিনি রুশ তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে এক বছরের বিশেষ ছাড় আদায় করে নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে অরবান দাবি করছেন যে, ইউরোপীয় নেতারা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন, যা সামরিকভাবে জয় করা সম্ভব নয়।

 

তিনি ইউক্রেনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তায় ইউরোপীয় অর্থায়নেরও বিরোধিতা করে আসছেন। অরবান এবং পুতিনের এই ঘনিষ্ঠতা এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন ইইউ ইউরোপে জব্দ করা রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে। হাঙ্গেরি শুরু থেকেই এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে।

 

উপরন্তু, ইউক্রেন বা ইইউ-এর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা করা একটি বিতর্কিত শান্তি পরিকল্পনার প্রশংসা করেছেন অরবান। ইউরোপের মূলধারার নেতারা এই পরিকল্পনাকে অত্যধিক রাশিয়া-ঘেঁষা বলে সমালোচনা করলেও, হাঙ্গেরি একে স্বাগত জানিয়েছে এবং মস্কোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, অরবানের এই সফর ইউরোপীয় রাজনীতিতে এক গভীর বিভাজন রেখা স্পষ্ট করে তুলেছে।

 

- Euro News