সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের জন্য ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ চালুর অনড় অবস্থানে ভন ডার লিয়েন, বেলজিয়ামের ঘোর আপত্তি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:৩৭ পিএম

ইউক্রেনের জন্য ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ চালুর অনড় অবস্থানে ভন ডার লিয়েন, বেলজিয়ামের ঘোর আপত্তি
ছবি: AP

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বেলজিয়ামের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও ইউক্রেনের জন্য একটি বিতর্কিত ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ বা রিপারেশন লোন চালুর পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই পরিকল্পনাকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করলেও, ভন ডার লিয়েন বেলজিয়ামকে আশ্বস্ত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।

 

আগামী ১৮ ডিসেম্বর ইইউ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথ ঋণের পথে হাঁটতে পারে। ভন ডার লিয়েন বুধবার এক আইনি নথির মাধ্যমে এই নিশ্চয়তাগুলোর রূপরেখা তুলে ধরেন। এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দ্বিপাক্ষিক অবদান, ইইউ বাজেটের ব্যাকস্টপ, রাশিয়ার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা এবং রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ ফেরত পাঠানোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

ইউক্রেনের বসন্তকালের মধ্যেই নতুন বিদেশি তহবিলের প্রয়োজন, তাই ১৮ ডিসেম্বরের সম্মেলনের আগে বেলজিয়ামের বাধা দূর করতে এটি কমিশনের সবচেয়ে সাহসী ও ব্যাপক প্রচেষ্টা। ভন ডার লিয়েন বলেন, “আজকের প্রস্তাবনার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করব যে, ইউক্রেনের কাছে নিজেকে রক্ষা করার এবং একটি শক্তিশালী অবস্থানে থেকে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।”

 

এই পরিকল্পনার আওতায় রাশিযার জব্দকৃত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে সুদহীন ঋণ দেওয়া হবে। ইউক্রেনকে তখনই এই ঋণ শোধ করতে বলা হবে, যখন রাশিয়া তার আগ্রাসনের কারণে হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হবে-যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব একটি দৃশ্যপট। আগামী দুই বছরের জন্য ইউক্রেনের সামরিক ও আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ইউরো দরকার, যার মধ্যে অন্তত ৯০ বিলিয়ন ইউরো ইইউ থেকে আসার কথা।

 

তবে রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদের সিংহভাগ, প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ইউরো, বেলজিয়ামের ইউরোক্লিয়ারে (Euroclear) গচ্ছিত থাকায় এই আলোচনায় বেলজিয়ামের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনায় বেলজিয়াম বারবার রাশিয়ার সম্ভাব্য প্রতিশোধ এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় ‘বুলেটপ্রুফ’ গ্যারান্টি দাবি করে আসছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভট বুধবার ন্যাটোর এক বৈঠকের আগে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের উদ্বেগগুলোকে খাটো করে দেখা হচ্ছে।

 

অর্থ ব্যবহার করে আমাদের ঝুঁকির মুখে একা ছেড়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি এই ঋণ প্রস্তাবকে ‘সবচেয়ে খারাপ’ বিকল্প হিসেবে অভিহিত করেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি উইভার গত সপ্তাহে এক চিঠিতে সতর্ক করেছিলেন যে, এই ঋণ রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনার পথ রুদ্ধ করে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় করদাতাদের ওপরই এই ঋণের বোঝা চাপতে পারে।

 

যদি শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ঋণের বিষয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো না যায়, তবে ভন ডার লিয়েন জানিয়েছেন, ইইউ কোভিড-১৯ মহামারির মতো যৌথ ঋণের ব্যবস্থা করবে। সেক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জন্য প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ইউরো ঋণ নেওয়া হতে পারে। বেলজিয়াম এই যৌথ ঋণের পক্ষে থাকলেও অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র এর বিরোধিতা করছে, কারণ এতে জাতীয় কোষাগারের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ পড়বে।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে ভন ডার লিয়েন দাবি করেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধের খরচ বাড়িয়ে দেওয়াই তাদের আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে। ইইউ রাষ্ট্রদূতরা বুধবার থেকেই এই আইনি নথি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন, লক্ষ্য ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো।

 

- Euro News