শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ২

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ২
ছবি: AP

শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার বড় ধরণের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ১৫ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া একযোগে শতাধিক ড্রোন এবং প্রাণঘাতী ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে, যা দেশের অন্তত ১৫টি স্থানে আঘাত হেনেছে।

 

যদিও ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৯৪টি ড্রোন ধ্বংস বা জ্যাম করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও ২৭টি ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সফল হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দোনেৎস্ক, নিপ্রোপেত্রোভস্ক এবং জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল। দোনেৎস্কের গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন জানিয়েছেন, সেখানে হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন।

 

নিপ্রোপেত্রোভস্কে আবাসিক ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সেখানে আরেক হামলায় ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। স্থানীয় বেসরকারি জ্বালানি সংস্থা ডিটিইকে (DTEK) জানিয়েছে, হামলার ফলে অঞ্চলটিতে প্রায় ১ লাখ পরিবার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগহীন হয়ে পড়েছে।

 

রবিবার তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন এবং শুক্রবার একদিনেই সেখানে ৭৪০টিরও বেশি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে। খারকিভে ৫৬ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন এবং সেখানে ডজনখানেক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া খেরসনে রাশিয়ার গোলাবর্ষণ ও গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা হামলায় রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলও বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছে। বেলগোরোদের গভর্নর ব্যাচেস্লাভ গ্ল্যাডকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ওই অঞ্চলের প্রায় ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সেখানে মেরামতের কাজ চলছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে, তবুও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

 

- Euro News