নির্বাচন কমিশন পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী এবং এই নীতি মেনেই আগামী দিনের সব নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় চত্বরে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে চলমান আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সিইসির এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিদর্শনকালে সিইসি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে বদ্ধপরিকর। এখানে দল-মত নির্বিশেষে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ পাবেন। কারো প্রতি কোনো ধরনের অবিচার বা পক্ষপাতিত্ব করা হবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, প্রত্যেকেই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য ন্যায়বিচার পাবেন এবং কমিশন তার সাংবিধানিক শপথের প্রতি অবিচল থাকবে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে বা যাদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের আপিল প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতেই সিইসি বুথ পরিদর্শনে যান। তিনি জানান, যারা আপিল আবেদন করছেন, তাদের প্রতিটি অভিযোগ আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। আইনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
যারা ন্যায়বিচারের আশায় কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছেন, তাদের হতাশ হতে হবে না।” এদিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশন ভবনে ভিড় জমাতে শুরু করেন। বাতিল হওয়া মনোনয়ন ফিরে পেতে কিংবা প্রতিপক্ষের মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিল করতে আসেন তারা। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোট ১৮ জন প্রার্থী আপিল দায়ের করেছেন। এই আপিল গ্রহণের কার্যক্রম আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে।
পরবর্তীতে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে। সিইসি নাসির উদ্দিনের এই কঠোর বার্তা ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি ভোটার এবং প্রার্থীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিনের নির্বাচনী অনিয়ম, কারচুপি ও আস্থার সংকট কাটিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের যে বিশাল চ্যালেঞ্জ কমিশনের সামনে রয়েছে, তা মোকাবেলায় সিইসির এই ইতিবাচক ও পেশাদার মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।