মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন বন্ধ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন বন্ধ
ছবি : Collected

দেশের সরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রগুলোর আশপাশে যাচাই-বাছাই ছাড়া গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম্য বন্ধে অত্যন্ত কঠোর ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

 

এখন থেকে দেশের কোনো সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন করে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবান্ধব নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন।

 

দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য একটি মানসম্মত ও সুশৃঙ্খল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা নানাবিধ অনিয়ম সমূলে দূর করার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার এই সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

বিগত সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম বড় একটি কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল যত্রতত্র এবং কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের অনুমোদন প্রদান করা।

 

এর ফলে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের ঠিক সামনে বা আশপাশে অসংখ্য মানহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠে, যার বেশিরভাগেরই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, আধুনিক ল্যাবরেটরি বা দক্ষ জনবল নেই।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ভাষ্যমতে, বিগত সময়ে এসব স্পর্শকাতর চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে একেবারেই অপরিকল্পিতভাবে এবং অনেকটা ব্যাঙের ছাতার মতো। এসব বেসরকারি ক্লিনিক অনেক ক্ষেত্রেই সেবার মহান ব্রতের বদলে কেবল বাণিজ্যিক মুনাফাকেই তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে, যার ফলে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীবৃন্দ পদে পদে চরম ভোগান্তি এবং আর্থিক শোষণের শিকার হয়েছেন।

 

স্বাস্থ্যখাতের এই অরাজক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই বর্তমান সরকার নতুন ক্লিনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কেবল নতুন অনুমোদন চিরতরে বন্ধ করাই নয়, বরং বর্তমানে পরিচালিত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অত্যন্ত জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

তিনি অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বর্তমানে বৈধ অনুমোদন রয়েছে, তাদেরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত মানদণ্ড ও নিয়মনীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

 

যদি কোনো চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয় অথবা নিরীহ রোগীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা, ভুল নিরীক্ষা বা চিকিৎসায় অবহেলার সামান্যতম প্রমাণও পাওয়া যায়, তবে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

 

জনস্বার্থ রক্ষায় সরকারের এই অনড় অবস্থান দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যখাতে একটি বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্যখাতের এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নীতিগত সংস্কারের বার্তাটি মন্ত্রী প্রদান করেন মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় এক আকস্মিক পরিদর্শনের সময়।

 

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে তিনি পূর্বনির্ধারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই সরাসরি গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক আকস্মিক পরিদর্শনে যান। তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ঠিক কেমন চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ রোগীদের জন্য কতটা স্বাস্থ্যসম্মত এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিকমতো তাঁদের ওপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা সম্পূর্ণ সরেজমিনে ও প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করাই ছিল তাঁর এই আকস্মিক সফরের মূল উদ্দেশ্য।

 

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের বিভিন্ন গঠনমূলক প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেওয়ার সময়ই তিনি সরকারের এই কঠোর সংস্কারমূলক সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।

 

উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করা এবং গ্রামীণ চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সরকার যে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাবলীল বক্তব্যে তার একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী রূপরেখাও উঠে আসে।

 

তিনি অত্যন্ত আনন্দ ও দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, আগামী অক্টোবর মাস থেকেই গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে এবং এর শয্যা সংখ্যা বর্তমানের ৫০ থেকে একলাফে বৃদ্ধি করে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি করার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত স্থানীয় বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এক বিশাল ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে জটিল ও গুরুতর রোগে আক্রান্ত স্থানীয় রোগীদের আর সামান্য কারণেই দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহর বা রাজধানী ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে না।

 

হাসপাতালটির এই আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরের মধ্যে সেখানে বেশ কিছু অত্যাধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা যুক্ত করার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও জনগুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা।

 

মারাত্মক কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও স্পর্শকাতর চিকিৎসার সুবিধার্থে সেখানে এমন একটি আধুনিক ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন করা হবে, যেখানে একসঙ্গে অন্তত দশজন রোগীকে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্নভাবে ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হবে।

 

এর পাশাপাশি, সাধারণ ও জটিল রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি নির্ভুল, আধুনিক ও দ্রুততর করার লক্ষ্যে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন প্যাথলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে।

 

এই ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠিত হলে তৃণমূলের দরিদ্র রোগীদের সাধারণ রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য নিরীক্ষার জন্য আর বাইরের কোনো ব্যয়বহুল বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

 

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, পক্ষাঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য ফিজিওথেরাপি বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য চিকিৎসাসেবা হিসেবে পরিগণিত।

 

গ্রামীণ পর্যায়ে এই চিকিৎসার ব্যাপক চাহিদার কথা গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্পূর্ণ আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালু করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

 

সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার স্বার্থে এই কেন্দ্রে পুরুষ ও নারীদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক সেবার ব্যবস্থা রাখা হবে। নারীদের জন্য আলাদা চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের এই সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত স্থানীয় নারী রোগীদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আস্থার সঞ্চার করবে।

 

সরকারের এই বহুমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবাকে একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার জন্য রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আকস্মিক পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের এক স্বতঃস্ফূর্ত ও বর্ণিল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাঁর এই মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, যিনি স্থানীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের এই মহতী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।

 

 

এ ছাড়া গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথী এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত ফারজানা খানসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও কর্মচারীবৃন্দ সেখানে সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত থেকে মন্ত্রীকে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অবহিত করেন।

 

সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও এই জনগুরুত্বপূর্ণ ও সংস্কারমূলক কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন, উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য মোতাহের হোসেন জাহাঙ্গীর এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম তারেকসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য তৃণমূল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই সুদূরপ্রসারী উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রতি তাঁদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

 

দলমত নির্বিশেষে জনস্বাস্থ্যের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের এই সম্মিলিত ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের চমৎকার বার্তা বহন করে।

 

পরিশেষে এটি অত্যন্ত নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক তৃণমূল পরিদর্শন এবং গণমাধ্যমের সামনে তাঁর প্রদান করা সুস্পষ্ট ও কঠোর বার্তাগুলো দেশের আপামর জনসাধারণের মধ্যে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিয়ে এক নতুন ও প্রবল আশার সঞ্চার করেছে।

 

সরকারি হাসপাতালের ঠিক সামনে নতুন কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন চিরতরে বন্ধ করা এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি বাড়ানোর যে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে, তা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিরাজমান অরাজকতা ও বাণিজ্যিকীকরণ দূর করতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

 

চিকিৎসাসেবার মতো একটি মহান পেশাকে পুরোপুরি অনৈতিক বাণিজ্যিকীকরণ থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের একেবারে দোরগোড়ায় একটি বিশ্বমানের, সাশ্রয়ী এবং সম্পূর্ণরূপে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়াই যে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য, মঙ্গলবারের এই ঘোষণায় সেটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।