আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে এই নির্বাচনকে মার্কিন রাজনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেছিলেন, সে সময় মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং উচ্চকক্ষ সিনেট-এই উভয় কক্ষেই তার দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল।
এই নিয়ন্ত্রণের কারণে তিনি খুব সহজেই নিজের দলীয় এজেন্ডা এবং নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন। কিন্তু এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা মার্কিন প্রশাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিভিন্ন বেসরকারি উৎস এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো থেকে পাওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য ও পরিসংখ্যান গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ বর্তমান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুধু তাই নয়, উচ্চকক্ষ সিনেটেও জয়ের পথে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি কংগ্রেসের দুই কক্ষই শেষ পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যাপকভাবে সীমিত ও খর্ব হয়ে পড়বে।
এবারের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের মোট ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদের জন্যও ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে যেকোনো রাজনৈতিক দলকে কমপক্ষে ২১৮টি আসনে জয়লাভ করতে হবে। অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে হলে কমপক্ষে ৫১টি আসনে জয়ী হওয়া বাধ্যতামূলক।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র তিনটি আসন এবং সিনেটে নিট চারটি আসনে অতিরিক্ত জয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ১০৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রাথমিক ফলাফল থেকে পরিষ্কারভাবে জানা গেছে যে, ৭১টি আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বর্তমান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা।
বিপরীতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন মাত্র ৩২টি আসনে। অপরদিকে, সিনেটের যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে ১৬টি আসনের বেসরকারি ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।
সেই ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১১টি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এবং বাকি ৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থীরা। মার্কিন রাজনীতি ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মতে, ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সম্ভবত সিনেটেরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে।
যদি সত্যিই এটি ঘটে, তবে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। এর ফলে প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরেরও বেশি সময়ে তার প্রশাসনিক ক্ষমতা, নতুন আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে খর্ব হতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হবে যদি রিপাবলিকান পার্টি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ চূড়ান্তভাবে হারায়। এমনটি হলে ডেমোক্র্যাট জনপ্রতিনিধিরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেকোনো আইনি এজেন্ডা এবং নতুন নীতিগুলোকে আটকে দেওয়ার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা লাভ করবেন।
এর পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাপক আইনি তদন্ত শুরু করার অবারিত সুযোগ পাবেন তারা। সিনেটেও যদি রিপাবলিকানদের পরাজয় ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ এবং রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সক্ষমতা সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের এই নির্বাচনটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনকাল এবং তার গৃহীত নীতিমালার প্রতি মার্কিন জনগণের এক ধরনের জাতীয় গণরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমন এক সংকটময় সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানদের প্রতি সাধারণ জনগণের জনমত তীব্রভাবে নেতিবাচক হয়ে উঠছে।
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার সময় দেশবাসীকে দ্রব্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে মুদ্রাস্ফীতি, অনিয়ন্ত্রিত শুল্ক বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার শুরু করা সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্য আকাশচুম্বী হওয়ায় চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে জীবনযাপন করছেন সাধারণ মার্কিনিরা।
জনগণের এই চরম অর্থনৈতিক অসন্তোষের প্রভাব সরাসরি পড়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর। আশি বছর বয়সী ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বা কাজের অনুমোদন হার বর্তমানে মাত্র ত্রিশ শতাংশের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। এই হতাশাজনক পরিসংখ্যান ইতোমধ্যেই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্টে পরিণত করেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ভোটার টেলর কুক ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বহনযোগ্য পর্যায়ে রাখা এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা-এই দুটি বিষয়ই এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চব্বিশ বছর বয়সী এই তরুণ ভোটার আক্ষেপ করে বলেন, বাড়ি ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, ইউটিলিটি বিল, সম্পত্তির ওপর কর-সবকিছুর দামই ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। তিনি কংগ্রেসে এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চান, যারা সত্যিই এই ব্যয় কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
কেন্টাকি ও ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হতে শুরু করার পরপরই ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি নাটকীয় পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেন যে, তারা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যেখানে ডেমোক্র্যাটরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজেদের হাতে তুলে নিতে যাচ্ছে এবং দেশের মানুষকে একটি নতুন দিকনির্দেশনা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তবে রিপাবলিকান শিবিরও নিজেদের অবস্থান রক্ষায় মরিয়া। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ভোটারদের উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে ফোন-ইন বার্তার মাধ্যমে নিজের শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন।
তার দাবি, কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতি, ইরানের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মতো সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি নতুন করে গড়ে তুলেছেন।
ফক্স টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-এ যুক্ত হয়ে ট্রাম্প বলেন, তাদের আমেরিকাকে মহান রাখতে হবে এবং তারা এখন অত্যন্ত মহান ও শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দুই বছর আগেও দেশের অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়।
রিপাবলিকান দলের নেতারা প্রতিনিয়ত জোর দিয়ে বলছেন যে, ট্রাম্পের কর হ্রাস নীতি এবং কঠোর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান সাধারণ ভোটারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ বয়ে আনবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় তারা ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের চরম বামপন্থী উগ্রবাদী হিসেবে চিত্রিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
এই রাজনৈতিক বার্তা কিছু রক্ষণশীল ভোটারের ওপর বেশ প্রভাব ফেলেছে। মিয়ামির বাসিন্দা এবং কলম্বীয় বংশোদ্ভূত সত্তর বছর বয়সী ভোটার মারু রেস্ট্রেপো এএফপিকে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা একসময় বেশ ভালো ছিল, কিন্তু এখন তারা পুরোপুরি একটি সমাজতান্ত্রিক দলে পরিণত হয়েছে।
পুরো নির্বাচনজুড়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের সহযোগিতার জন্য দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রচার সভায় উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছেন। তবে জনমত জরিপগুলোর তথ্য বলছে, ট্রাম্পের এই অতিমাত্রায় উপস্থিতির কারণেই হয়তো মধ্যপন্থী ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং রিপাবলিকানরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সোমবারের জনসমক্ষে দেওয়া নিজের সর্বশেষ প্রচার ভাষণে ট্রাম্প নির্বাচনের মূল ইস্যুগুলোর বিষয়ে প্রায় কিছুই বলেননি; বরং ওয়াশিংটনের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের সময় যে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েই অত্যন্ত দীর্ঘ এবং অসংলগ্ন আলোচনা করেছেন।
অবশ্য হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এএফপিকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের যা যা করা প্রয়োজন ছিল, তার সবই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করেছেন। তিনি দাবি করেন, চার সপ্তাহ আগের পরিস্থিতির তুলনায় রিপাবলিকানরা এখন অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।
তবে সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের এই শেষ ভাষণটিকে সম্পূর্ণ শোচনীয় এবং হতাশাজনক বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই মুহূর্তে ভোট গণনায় প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকলেও ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য সিনেটে চূড়ান্তভাবে জয়লাভ করা একটি অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে চলমান ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষের কারণে এই লড়াইটি কানসাস, টেক্সাস, আইওয়া, ওহাইও এবং আলাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যগুলোতেও তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর পাশাপাশি, ডেমোক্র্যাটদের নিজেদেরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসন ধরে রাখার জন্য কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে। এর মধ্যে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে দলের অভ্যন্তরীণ তীব্র বিরোধের জেরে কংগ্রেসনেত্রী হ্যালি স্টিভেন্স সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের পরিবর্তে প্রকাশ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন।
নির্বাচন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৪১টি এবং রিপাবলিকানরা ১৯৪টি আসন পেতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সিনেটেও ডেমোক্র্যাটরা ৫২-৪৮ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এইবারের নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের পেছনে সব মিলিয়ে ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক একাই রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন।
সবশেষে, একটি গভীর আশঙ্কা সর্বত্র প্রবল হয়ে উঠেছে যে, রিপাবলিকানরা যদি এই নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন, তবে তারা কোনোভাবেই নির্বাচনের এই ফলাফল মেনে নিতে চাইবেন না।
বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের পরাজয়কে উল্টে দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন, তিনি ইতোমধ্যেই বারবার ব্যাপক ভোটার জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন এবং কোনো ধরনের সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি হাউস নির্বাচনের সময় ভোটিং মেশিনে হঠাৎ করে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে ডানপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সামাজিক মাধ্যমে ভিত্তিহীন জালিয়াতির অভিযোগ তুলতে শুরু করেন।
যদিও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নিশ্চিত করেছেন যে, এটি নিছকই একটি যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল এবং প্রতিটি বৈধ ব্যালটই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গণনা করা হবে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য এখন পুরো বিশ্ব গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।