রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। দেশটির তরুণ সমাজ মূলত এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিল। পুলিশের বর্বরতা, দুর্বল শাসনব্যবস্থা, লাগামহীন দুর্নীতি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে তারা প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগের দাবি জানায়। গত মাসে পুলিশি হেফাজতে একজন ব্লগারের মৃত্যুর ঘটনা এই নতুন দফার বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে। সোমবার বিক্ষোভ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়। নাইরোবির দিকে যাওয়ার সমস্ত প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, যা শহরকে কার্যত অচল করে দেয়।
কেনিয়ার ইতিহাসে ৭ই জুলাই, যা স্থানীয় সোয়াহিলি ভাষায় 'সাবা সাবা' নামে পরিচিত, একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ৩৫ বছর আগে, ১৯৯০ সালের এই দিনেই একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের দাবিতে প্রথম বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ ১৯৯২ সালে দেশটিতে বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক এই দিনটিতে আবারও সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা কেনিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক সংকটকে তুলে ধরেছে। সহিংসতার পর নাইরোবির ব্যবসায়ীরা এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। ভাঙা কাঁচ, লন্ডভন্ড দোকানপাট এবং লুট হয়ে যাওয়া পণ্য— এই চিত্র এখন শহরের অনেক জায়গাতেই। একদিকে জীবনের ঝুঁকি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি, এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এই সহিংসতার পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যেকার উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র// আফ্রিকানিউজ