জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের এই বিশেষ রূপের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ। পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের পরিভ্রমণের কক্ষপথটি সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, এটি কিছুটা উপবৃত্তাকার। এর ফলে, চাঁদ তার পরিভ্রমণকালে কখনো পৃথিবীর কাছে চলে আসে আবার কখনো দূরে সরে যায়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, যখন একটি পূর্ণিমা চাঁদের এই নিকটতম অবস্থানে (অনুভূ) ঘটে, তখন তাকে 'সুপারমুন' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
সুপারমুনের সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে থাকার সময়ের (অপভূ) তুলনায় দৃশ্যত প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বড় এবং ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি উজ্জ্বল দেখায়। বুধবার রাতে ডাকারের আকাশে এই উজ্জ্বলতার তারতম্য স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। নাসার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের এই নভেম্বরের সুপারমুনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি চলতি বছরের তিনটি সুপারমুনের মধ্যে দ্বিতীয় এবং পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী।
এই সময়ে চাঁদ পৃথিবী থেকে মাত্র ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার কিলোমিটারেরও (প্রায় ২ লক্ষ ২২ হাজার মাইল) কম দূরত্বে অবস্থান করছিল, যা একে বছরের অন্যতম দর্শনীয় একটি মহাজাগতিক ঘটনায় পরিণত করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই সুপারমুন পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো বিশেষ দূরবীন বা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়নি। পরিষ্কার আকাশে খালি চোখেই এর উজ্জ্বলতা উপভোগ করা গেছে। তবে, নাসা উল্লেখ করেছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি চোখে চাঁদের আকারের এই ১৪ শতাংশ তারতম্য শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে, যদিও এর অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসেবে, সুপারমুন বছরে বেশ কয়েকবারই ঘটে থাকে। চলতি বছর এর আগে অক্টোবর মাসেও একটি সুপারমুন দেখা গিয়েছিল এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে এই বছরের শেষ সুপারমুনটি উদিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ডাকারের আকাশে বিভার সুপারমুনের এই জাঁকজমকপূর্ণ উদয় অগণিত মানুষের মনে এক স্মরণীয় দৃশ্য হয়ে রইলো।