সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেনিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ, সীমান্ত বন্ধই রাখছে নাইজার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:১৯ পিএম

বেনিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ, সীমান্ত বন্ধই রাখছে নাইজার
ছবি: AP

নাইজারের প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান টিয়ানি এই সপ্তাহান্তে পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিবেশী দেশ বেনিনের সাথে তাদের দেশের সীমান্ত বন্ধই থাকবে। শনিবার সীমান্তের নিকটবর্তী গায়া শহরে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, তিনি বেনিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এই অচলাবস্থার জন্য দায়ী করেন এবং বলেন, "যতদিন না বেনিন পক্ষের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে" ততদিন এই সীমান্ত খোলা হবে না।

 

জান্তা প্রধান টিয়ানি বেনিনের বিরুদ্ধে সরাসরি ফরাসি সৈন্যদের নিজ ভূখণ্ডে আশ্রয় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, বেনিন পশ্চিমা দেশগুলোকে "সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও সমর্থন" করার সুযোগ করে দিচ্ছে। টিয়ানির মতে, এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোর জোট 'অ্যালায়েন্স অফ সাহেল স্টেটস' (এইএস)-কে অস্থিতিশীল করা। নাইজারের সামরিক কর্তৃপক্ষ অতীতেও একই ধরনের অভিযোগ এনেছিল, যদিও বেনিন সরকার বরাবরই এই দাবিগুলো জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে।

 

প্রেসিডেন্ট টিয়ানি তার ভাষণে আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে "নাইজারের জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার শামিল।" ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল টিয়ানির নেতৃত্বাধীন জান্তা নাইজারের ক্ষমতায় আরোহণের পর থেকেই বেনিনের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত গাদারগাহটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে গত দুই বছর ধরে উভয় দেশের মধ্যে মানবিক বিনিময় এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উভয় দেশের অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান এই উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বেনিনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। গত আগস্টে বেনিন তাদের জাতীয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে 'এইএস' জোটের সদস্য দেশ নাইজার এবং বুরকিনা ফাসোকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। তবে, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই উদ্যোগ সফল হয়নি, কারণ উভয় দেশই ওই অনুষ্ঠানে তাদের সৈন্য পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

 

- Africa News