প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই উত্তাল সময়ে দুজিলে'র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা বিভিন্ন পোস্ট অন্যদের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সরাসরি প্ররোচিত করেছিল, যা দেশজুড়ে মারাত্মক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ২০২১ সালের জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওই ধ্বংসাত্মক দাঙ্গা শুরু হয়েছিল মূলত একটি দুর্নীতি তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জেকব জুমাকে কারারুদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে।
জেকব জুমার নিজ প্রদেশ কোয়াজুলু-নাটাল থেকে সেই অস্থিরতার সূত্রপাত হলেও, তা খুব দ্রুত দেশটির অর্থনৈতিক কেন্দ্র গাউতেং প্রদেশসহ অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে। ওই দাঙ্গার সময় দেশজুড়ে ব্যাপক লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সরকারি হিসাব অনুসারেই, ওই সহিংসতায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন এবং হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়।
দুদুজিলে জুমা-সাম্বুদলা দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতে একজন সুপরিচিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তার এই বিচার প্রক্রিয়াকে ঘিরে তাই দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমগুলোর ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং তার সেসময়ের কর্মকাণ্ডগুলো এখন তীব্র জন-অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। এই মামলাটি কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি দক্ষিণ আফ্রিকার গভীরতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটগুলোকেও পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অস্থিরতার মূলে ছিল দেশটির আকাশচুম্বী বেকারত্বের হার এবং তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য। একইসাথে, এই বিচার প্রক্রিয়াটি নাগরিক বিশৃঙ্খলা বা সামাজিক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবশালী এবং বিপজ্জনক ভূমিকাটিও স্পষ্ট করে তুলেছে। দুজিলে'র এই সম্পৃক্ততা দেশটির শাসক দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর প্রতি জনসমর্থন হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।