সাধারণত সম্মেলনের শেষ দিনে এধরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও, এবার তার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় একজোট হওয়ার বার্তা দিল জি-২০ জোট। তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি এবং তীব্র বিরোধিতার মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হয়েছে।
শনিবার জোহানেসবার্গে ধনী ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোটের নেতারা একটি গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। সম্মেলনের শুরুতেই গৃহীত ঘোষণাপত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের বোঝা লাঘব এবং তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জলবায়ু সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি এই ঘোষণাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা। উল্লেখ্য, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘ধোঁকাবাজি’ বা ‘গুজব’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের মতে, এই ঘোষণা তাদের জন্য একটি বিশাল কূটনৈতিক বিজয়।
সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে তারা দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমস্যাগুলোকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই অর্জনের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত এই দু’দিনের আলোচনা বয়কট করেছে। ফলে ওয়াশিংটনের কোনো মতামত বা অংশগ্রহণ ছাড়াই এই ঘোষণাপত্রটির খসড়া তৈরি ও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে হোয়াইট হাউস। তাদের অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকা চলতি বছর জোটের নেতৃত্বের সুযোগ নিয়ে জি-২০ কে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী বছর যখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জি-২০ এর সভাপতিত্ব আসবে, তখন জোটের ‘হারানো বৈধতা’ ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে তারা একপাক্ষিক হিসেবেই দেখছে। কূটনৈতিক এই টানাপড়েন এখানেই শেষ হয়নি। রবিবার সম্মেলনের শেষ দিনে পরবর্তী সভাপতির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স’ বা নিম্নপদস্থ কূটনীতিককে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল।
কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্সি শনিবার কঠোর ভাষায় সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের এই অনড় অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে, আফ্রিকান মহাদেশে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে পশ্চিমা আধিপত্যের চেয়ে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ ও মর্যাদাকেই এবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বনেতাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচ্ছিন্নতা আগামী দিনের বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।