শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাইজেরিয়ায় অপহৃত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, সামরিক বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার ৫০

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০১:৫৯ পিএম

নাইজেরিয়ায় অপহৃত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, সামরিক বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার ৫০
ছবি: AP

নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে ক্যাথলিক স্কুল থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অপহরণের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে রোববার রাজধানী আবুজায় দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন নাইজেরিয়ান সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

 

বৈঠকের পর সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল ওয়াইদি শাইবু জানিয়েছেন, অপহৃতদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী বন্দিদশা থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে এবং তারা বর্তমানে নিরাপদে পরিবারের জিম্মায় রয়েছে। তবে বাকিদের উদ্ধারে জোরদার সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ নাইজেরিয়া (CAN)-এর দেওয়া তথ্যমতে, গত সপ্তাহে উত্তর-মধ্য নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের সেন্ট মেরি’স স্কুলে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হানা দেয়।

 

প্রাথমিকভাবে ২১উ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে জানানো হয় যে মোট ৩০৩ জন শিক্ষার্থী এবং ১২ জন শিক্ষককে বন্দুকধারীরা তুলে নিয়ে গেছে। এই ঘটনা নাইজেরিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অপহরণের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় শিকারি দল ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ ট্যাকটিক্যাল স্কোয়াড যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

 

অন্যদিকে, দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চল কোয়ারা রাজ্যেও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার এরুকু শহরের ক্রাইস্ট অ্যাপোস্টলিক চার্চে বন্দুকধারীরা হামলা চালালে দুইজন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন জিম্মি হন। তবে সেনাপ্রধান শাইবু নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ঘটনায় অপহৃত ৩৮ জন পুণ্যার্থীকে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তারা মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তিনি এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

নাইজার রাজ্যের এই বিশাল অপহরণের ঘটনার মাত্র চার দিন আগেই পার্শ্ববর্তী কেবি রাজ্যের মাগা শহর থেকে ২৫ জন স্কুলছাত্রীকে একইভাবে অপহরণ করা হয়েছিল। ওই দুটি ঘটনাস্থলের দূরত্ব মাত্র ১৭০ কিলোমিটার। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন স্কুলগুলোকে তাদের ‘কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে সহজেই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়।

 

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ ১০টি রাজ্যের মাত্র ৩৭ শতাংশ স্কুলে হামলা মোকাবিলার মতো আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা বা আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকির কারণ। এই অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

 

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের ফলে নাইজেরিয়া সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও নাইজেরিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই হামলাগুলো কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের ওপর নয়, বরং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নির্বিচার সহিংসতার অংশ, যার শিকার মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট টিনুবু এবং সামরিক বাহিনী বর্তমানে এই সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

 

- Africa News