কেনিয়ার নাগরিক সমাজের নেতৃত্বে এবং দ্য মাদ্রিদ বার অ্যাসোসিয়েশন ও ওয়ার্ল্ড জুরিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের মতো প্রভাবশালী আইনি সংস্থাগুলোর সহায়তায় আইসিসিতে এই পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছে। এতে নির্বাচনের আগে ও পরে সংঘটিত ঘটনাগুলোকে 'মানবতাবিরোধী অপরাধ' হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
হেগ-ভিত্তিক আদালতে জমা দেওয়া ৮২ পৃষ্ঠার ওই দীর্ঘ ও বিস্তারিত নথিতে তানজানিয়া সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় মদদে সাধারণ নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্মম নির্যাতন, গুম, যৌন সহিংসতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
অভিযোগকারীদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে রাখতে সরকারি বাহিনী সাধারণ ভোটার ও বিরোধী দলীয় সমর্থকদের ওপর এই ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বা কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট সুলুহু এই দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।
তাঁদের দাবি, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই দমন-পীড়ন চালানোর অনুমতি বা নির্দেশ তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতেই দেওয়া হয়েছে, তাই তাঁকেই এর মূল দায়ভার বহন করতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলের এই তীব্র সমালোচনার ঝড়ের মুখে তানজানিয়া সরকার নজিরবিহীনভাবে তাদের আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় উদযাপন বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান বিতর্কিত নির্বাচনের ফলাফলকে সঠিক বলে দাবি করে আসছেন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রশমনে একটি সীমিত পরিসরের 'জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়া'র প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু বিরোধীরা এবং মানবাধিকার কর্মীরা তাঁর এই প্রস্তাবকে 'অপর্যাপ্ত' ও 'লোক দেখানো' বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, সেখানে স্বচ্ছ বিচার ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো পুনর্মিলন সম্ভব নয়।
আইসিসি এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরু করেনি, তবে পিটিশনকারীরা আদালতের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর চাপ প্রয়োগ করছেন। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ও গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি এখন তানজানিয়া। একজন ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশের সিভিল সোসাইটি এবং আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের এই আইনি পদক্ষেপ পূর্ব আফ্রিকার রাজনীতিতে এক অনন্য ঘটনা।
প্রেসিডেন্ট সুলুহুকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে। আগামী মাসগুলোতে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালত এই পিটিশনের প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং তানজানিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন গভীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।