সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গিনি-বিসাউয়ে নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে গোলাগুলি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৩৪ পিএম

গিনি-বিসাউয়ে নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে গোলাগুলি
ছবি: AP

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন পর রাজধানীজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই দেশটির প্রেসিডেন্টের বাসভবনের আশেপাশে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। বুধবার রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে সেনা অভ্যুত্থান বা রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের পরপরই এমন সহিংসতা দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গোলাগুলির ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্টের বাসভবনের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে।

 

ভারী অস্ত্রে সজ্জিত মুখোশধারী সেনা সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল দিতে দেখা গেছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রাজধানীর পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। কারা এই গোলাগুলি চালিয়েছে বা এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

 

এই উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে গত রোববারের সাধারণ নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে দায়ী করা হচ্ছে। গত রোববার দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারিভাবে নির্বাচনী ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি, যা আগামী বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এর আগেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

 

বর্তমান প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালো এবং বিরোধী দলীয় প্রার্থী ফার্নান্দো দিয়াস দা কস্তা-উভয়েই মঙ্গলবার নিজেদের জয়ী বলে দাবি করেছেন। এই পাল্টাপাল্টি বিজয় দাবি এবং ফলাফল ঘোষণার আগেই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করা পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গিনি-বিসাউয়ের রাজনৈতিক ইতিহাস বরাবরই অস্থিতিশীল। ১৯৭৪ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশটি এ পর্যন্ত চারটি সফল সেনা অভ্যুত্থানের সাক্ষী হয়েছে।

 

এছাড়াও অসংখ্যবার অভ্যুত্থানচেষ্টা হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসেই দেশটিতে একটি অভ্যুত্থানচেষ্টার খবর পাওয়া গিয়েছিল। রোববারের নির্বাচনের পর যখন শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বা ধারাবাহিকতার আশা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই গোলাগুলির ঘটনা গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

 

মুখোশধারী সেনাদের উপস্থিতি এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাটি অতীতের সামরিক হস্তক্ষেপগুলোর স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল ও পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোটগুলো পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে, তবে বৃহস্পতিবারের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত দেশটির পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

 

- Africa News