রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুদানে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও সংঘাত ও অর্থাভাবে ঝুঁকিতে এখনো কোটি মানুষ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৩৭ পিএম

সুদানে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও সংঘাত ও অর্থাভাবে ঝুঁকিতে এখনো কোটি মানুষ
ছবি: AP

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে তীব্র ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবশেষে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। বুধবার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, গত বছর যে ১০টি এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত করা হয়েছিল, সেখানে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।

 

এর ফলে ওই ১০টি এলাকার মধ্যে ৯টি এলাকাকে এখন আর ‘দুর্ভিক্ষ কবলিত’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না, অর্থাৎ সেখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে উন্নতির এই ইতিবাচক লক্ষণ সত্ত্বেও ডব্লিউএফপি কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেছে, সুদান এখনো বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ক্ষুধা সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই রয়ে গেছে। দেশটির দারফুর এবং দক্ষিণের কর্দোফান রাজ্যের দুটি অংশে এখনো পুরোদমে দুর্ভিক্ষ বিরাজ করছে।

 

সংস্থার আঞ্চলিক জরুরি সমন্বয়কারী শন হিউজ জানিয়েছেন, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চলমান সংঘাতের কারণে আল-ফাশির ও কাদুগলির মতো শহরগুলোতে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও একটি বড় সংকটের কথা উল্লেখ করেন, যা হলো সম্পদের তীব্র অভাব। বর্তমানে সংস্থাটি প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ লাখ মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে, কিন্তু ভাণ্ডার ফুরিয়ে আসায় অধিকাংশ মানুষকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম রেশন বা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

 

হিউজ আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নতুন করে তহবিল না পেলে আগামী জানুয়ারি নাগাদ এই সীমিত সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো সম্পদও তাদের হাতে থাকবে না। ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

 

এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে দুর্ভিক্ষপীড়িত বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

এর মূল কারণ হলো, রাজধানী খার্তুমসহ যেসব এলাকায় আগে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব ছিল, সেখানে এখন জাতিসংঘের কর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আল-ফাশির ও অন্যান্য এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ৫ লাখেরও বেশি মানুষ তাভিলা এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে ডব্লিউএফপি তাদের জরুরি সহায়তা প্রদান করছে।

 

মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এবং অনিরাপদ হওয়ায় ত্রাণবাহী কনভয়গুলোর রুট ঘনঘন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, বর্তমানে সুদানের ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখোমুখি। পর্যাপ্ত তহবিল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে আরও বেশি মানুষকে সহায়তা প্রদান এবং তাদের ঘরে ফেরার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।

 

- Africa News