রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেনারেলের ক্ষমতা দখলে ইকোওয়াসের সদস্যপদ স্থগিত ও তীব্র নিন্দা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১০ পিএম

জেনারেলের ক্ষমতা দখলে ইকোওয়াসের সদস্যপদ স্থগিত ও তীব্র নিন্দা
ছবি: AP

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনার নাটকীয় মুহূর্তেই ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। এই অগণতান্ত্রিক পন্থায় একজন সেনা জেনারেল নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করার পরপরই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ‘ইকোওয়াস’ (ECOWAS)। সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে গিনি-বিসাউয়ের সদস্যপদ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইকোওয়াসের ‘মধ্যস্থতা ও নিরাপত্তা কাউন্সিল’ (এমএসসি)-এর এই বিশেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাডা বায়ো। বৈঠকে নাইজেরিয়া, ঘানা, সেনেগাল, লাইবেরিয়া, কেপ ভার্দে এবং বেনিনের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে গিনি-বিসাউয়ের এই সেনা অভ্যুত্থানকে ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবৈধ ও অকাল মৃত্যু’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। নেতারা বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা দখল করা মূলত জনগণের ভোটাধিকার ও ইচ্ছাকে পদদলিত করার শামিল। ইকোওয়াস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে সাংবিধানিক শাসন ও গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সংস্থাটিতে গিনি-বিসাউয়ের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

 

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গিনি-বিসাউয়ে সম্প্রতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জনগণ যখন অধীর আগ্রহে ভোটের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে একজন জেনারেল শপথ গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নেন। এই ঘটনা দেশটিকে আবারও গভীর রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

 

কেবল ইকোওয়াসই নয়, আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU)-ও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারাও খুব শীঘ্রই গিনি-বিসাউয়ের বিরুদ্ধে অনুরূপ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম আফ্রিকা বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এক ভয়াবহ সময় পার করছে। ২০২০ সালের পর থেকে এই অঞ্চলে এটি ষষ্ঠ সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা।

 

মালি, বুরকিনা ফাসো, এবং নাইজারের পর গিনি-বিসাউয়ের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাহেল ও পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্রমেই নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। ঘনঘন ক্ষমতার পালাবদল এবং সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইকোওয়াসের এই কঠোর অবস্থান মূলত ভবিষ্যতে যাতে অন্য কোনো দেশে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বার্তা দেওয়ারই একটি প্রচেষ্টা।

 

- Africa News