একজন দায়িত্বরত মন্ত্রীর এভাবে পালানোর চেষ্টা এবং পরবর্তীতে আটকের ঘটনা দেশটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, মন্ত্রী সিফন অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে রাজধানী ত্যাগ করার চেষ্টা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কে তাঁর গাড়ি আটকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের মতে, গত দুই বছরে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আসা বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই অর্থের উৎস ছিল মূলত সরকারি বরাদ্দ, রাষ্ট্রায়ত্ত হোটেলগুলোর লভ্যাংশ এবং তেল ও গ্যাস খাতের বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্প। পর্যটন খাতের উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত এই তহবিলের সঠিক ব্যবহার না হওয়ায় এবং হিসাবের নথিপত্রে গরমিল থাকায় তদন্ত সংস্থাগুলো তাঁর ওপর নজরদারি বাড়িয়ছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন খতিয়ে দেখছেন যে, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আসলে কোথায় ব্যয় করা হয়েছে এবং কেন নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেনের কোনো বৈধ নথিপত্র বা অ্যাকাউন্টিং জাস্টিফিকেশন নেই। সাধারণত কোনো ক্ষমতাসীন মন্ত্রীকে গৃহবন্দি করার ঘটনা রাজনীতিতে বেশ বিরল এবং স্পর্শকাতর বিষয়। তবে সিফন যেভাবে রাজধানী ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাতে তাঁকে ‘পলায়নপর’ বা ফ্লাই রিস্ক হিসেবে বিবেচনা করেই কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
এই ঘটনা গ্যাবনের বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির একটি পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্যাসকেল ওগোয়ে সিফন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গ্যাবনের পর্যটন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত হোটেলগুলোর সম্পদের অডিট বা নিরীক্ষা এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন ছিল অন্যতম।
কিন্তু এখন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার জল কতদূর গড়ায় তা দেখার বিষয়। এটি কি কেবল একজন ব্যক্তির শাস্তির মাধ্যমেই শেষ হবে, নাকি এর জেরে গ্যাবনে বড় কোনো রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হবে, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।