তিনি এই নির্বাচনকে ‘সফলভাবে সম্পন্ন’ হয়েছে বলে অভিহিত করে দেশটির সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর এবং বিবৃতি এমন এক সময়ে এলো যখন তানজানিয়ার নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমারা প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচনে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন। তবে এই নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে প্রধান বিরোধী প্রার্থীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ ও জালিয়াতিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। বিরোধীদের দাবি, অক্টোবরের নির্বাচনের পর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ও সহিংসতায় অন্তত ২,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই তাঁর সফরে নির্বাচন-পরবর্তী এই ভয়াবহ সহিংসতার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। প্রেসিডেন্ট হাসানের সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তানজানিয়ার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি বেইজিংয়ের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “তানজানিয়ার নেতৃত্ব এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে অভ্যন্তরীণ বিষয় পরিচালনার সক্ষমতার ওপর চীনের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।” বেইজিংয়ের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে, মানবাধিকার বা নির্বাচনী স্বচ্ছতার চেয়ে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং স্থিতিশীলতাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কূটনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও এই সফরে গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তানজানিয়ায় চীনের বিনিয়োগ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওয়াং ই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তানজানিয়া সরকারের তথ্যমতে, দেশটির স্বল্প করযুক্ত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বেইজিং তাদের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই চীন ৩৪০টিরও বেশি প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে, যার মোট নিবন্ধিত মূল্য প্রায় ৩১০ কোটি মার্কিন ডলার (৩.১ বিলিয়ন ডলার)। এই বিপুল বিনিয়োগ দুই দেশের গভীর অর্থনৈতিক সখ্যেরই প্রমাণ।
তানজানিয়া সফর শেষে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর আফ্রিকা সফরের পরবর্তী গন্তব্য লেসোথোর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। লেসোথোতেও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং বাণিজ্যিক চাপ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফ্রিকার দেশগুলোতে পশ্চিমা প্রভাবের বিপরীতে চীন নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করতেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তানজানিয়ার বিতর্কিত নির্বাচনের পর বেইজিংয়ের এই ‘ক্লিন চিট’ বা সমর্থন দেশটির সরকারকে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে।