বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিশংসনের চেষ্টা করলে ডেমোক্র্যাটরা ধ্বংস হবে, কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

অভিশংসনের চেষ্টা করলে ডেমোক্র্যাটরা ধ্বংস হবে, কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির বিশাল ও ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক সম্পূর্ণ নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবর্তিত ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কট্টর রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি অত্যন্ত কড়া, দ্ব্যর্থহীন ও অভূতপূর্ব হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

 

তিনি স্পষ্টভাবে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন যে, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তার প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী নীতি এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মাটিতে সামরিক অভিযানের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা যদি তাকে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট করার কোনো ধরনের আইনি অপচেষ্টা করেন, তবে তার চূড়ান্ত পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন যে, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার এই হঠকারী রাজনৈতিক জুয়া খেলতে গেলে ডেমোক্রেটিক পার্টি নিজেরাই রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম চরম উত্তেজনাকর ও আক্রমণাত্মক বাক্যবিনিময় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে বহুল প্রতীক্ষিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এর ঠিক পরের দিন ৪ নভেম্বর সারা দেশ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ও নাটকীয় ফলাফল প্রকাশিত হতে শুরু করে। সেই নির্বাচনী ফলাফলের দিকে নিবিড়ভাবে নজর দিলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে এক বিশাল ও অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

 

এবারের নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং উচ্চকক্ষ সিনেট-উভয় জায়গাতেই বর্তমান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ঐতিহাসিক জয়লাভ করেছেন।

 

এই বিশাল বিজয়ের ফলে মার্কিন আইনসভায় ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্যের চূড়ান্ত অবসান ঘটেছে এবং ডেমোক্র্যাটরা নতুন করে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং সর্বোপরি প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর লাগাম টানার শক্তিশালী সাংবিধানিক অধিকার অর্জন করেছে।

 

স্বাভাবিকভাবেই, দেশজুড়ে এই বিশাল রাজনৈতিক পরাজয় হোয়াইট হাউস এবং রিপাবলিকান শিবিরের জন্য এক প্রচণ্ড মানসিক ও কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই নবঅর্জিত অসীম ক্ষমতার প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মধ্যে নানা মাত্রিক জল্পনাকল্পনা চলছে।

 

এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত বেশ কিছু অত্যন্ত বিতর্কিত, একতরফা ও সাহসী সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী শিবিরের তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।

 

বিশেষ করে, ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতাদের জোরালো মতামত, সতর্কতা ও তীব্র আপত্তিকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিশেষ নির্বাহী ক্ষমতাবলে ইরানে যে সরাসরি সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা মার্কিন রাজনীতি তথা বিশ্ব কূটনীতিতে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

 

বিরোধীদের জোরালো দাবি ছিল, মার্কিন কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে এমন বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

 

শুধু আগ্রাসী বৈদেশিক নীতিই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নীতির ক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই তার নিজস্ব কট্টর অবস্থানে অনড় থেকেছেন। ক্ষমতায় আসার পরপরই অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে কঠোর ও আপসহীন অভিবাসন-বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, সেখানেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিরোধী দলের মতামত, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর গভীর উদ্বেগ এবং নাগরিক সমাজের তীব্র আপত্তিকে সচেতনভাবেই উপেক্ষা করেছেন তিনি।

 

এই পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক ক্ষোভ ও মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব থেকেই মূলত নতুন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের দ্বারা ট্রাম্পের অভিশংসনের বিষয়টি বারবার জোরালোভাবে সামনে চলে আসছে। কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের এই বিপর্যয়কর ফলাফলের পর বুধবার বিকেলে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

 

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সাংবাদিকদের সঙ্গে এই আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়কালে তিনি দলের এমন শোচনীয় রাজনৈতিক পরাজয়ের বিষয়টি অত্যন্ত সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। হোয়াইট হাউসের সুবিস্তৃত ও দৃষ্টিনন্দন লনে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি তার নতুন নির্মাণাধীন অত্যন্ত বিলাসবহুল প্রকল্প ‘বলরুম’ ঘুরিয়ে দেখান।

 

প্রায় বিশ মিনিট ধরে তিনি অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই নতুন স্থাপত্যশৈলী, এর নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সৌন্দর্য নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। অথচ এর ঠিক আগের রাতে সারা দেশে রিপাবলিকান প্রার্থীরা যে এক ভয়াবহ ও লজ্জাজনক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন, সে বিষয়ে তার দীর্ঘ বক্তব্যে কোনো স্বতঃস্ফূর্ত উল্লেখ বা দুঃখপ্রকাশ ছিল না।

 

দেশের এমন একটি সংকটময় রাজনৈতিক মুহূর্তে তার এই আপাত উদাসীন আচরণ উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ বিস্ময়ের জন্ম দেয় এবং অনেক অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষক এটিকে পরাজয়ের গ্লানি ও হতাশা ঢাকার এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আত্মরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

 

তবে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে একবিন্দুও পিছিয়ে যাননি। হোয়াইট হাউসের লনে প্রকল্প পরিদর্শনের একপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সরাসরি প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেন যে, বর্তমানে পরিবর্তিত এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন কংগ্রেসের উভয় কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, তখন বিরোধী আইনপ্রণেতারা যদি তাকে অভিশংসন করার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তবে তিনি এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন কি না।

 

এই তীক্ষ্ণ ও সরাসরি প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ দৃঢ়তা, ক্ষোভ ও অসীম আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন যে, তিনি এই অভিশংসনের অমূলক হুমকি নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর ভাষায় সাংবাদিকদের বলেন, "আমি এই অভিশংসনের গুঞ্জন নিয়ে সামান্যতমও চিন্তিত নই।

 

বরং আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তারা যদি সত্যি সত্যিই এমনটা করার দুঃসাহস দেখায়-অর্থাৎ কোনো সুস্পষ্ট কারণ, প্রমাণ বা যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করে—তবে সেই হঠকারী সিদ্ধান্তই ডেমোক্রেটিক পার্টিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেবে।"

 

নিজের শাসনামলের অসামান্য সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে ট্রাম্প আরও বলেন, "তারা আমাকে কিসের জন্য অভিশংসন করবে? একটি অত্যন্ত সফল, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার অপরাধে? আমাদের প্রিয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র এখন তার সমগ্র ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে অর্থনৈতিক, সামরিক ও সামাজিকভাবে অনেক বেশি সফল এবং শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

 

আমরা আমেরিকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনেছি।" তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত দেশবাসীকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, দেশের সাধারণ জনগণ তার নীতির প্রত্যক্ষ সুফল ভোগ করছে এবং অভিশংসনের মতো কোনো চরম পদক্ষেপ নিলে সাধারণ জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে।

 

সাংবাদিকদের সঙ্গে এই দীর্ঘ ও উত্তেজনাকর সাক্ষাৎকারে একপর্যায়ে রিপাবলিকান পার্টির দেশব্যাপী নির্বাচনী পরাজয় সংক্রান্ত একটি সরাসরি প্রশ্নেরও উত্তর দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি এই পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধ থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে সরিয়ে দলের অন্যান্য প্রার্থীদের প্রচারণার দুর্বলতার দিকে সরাসরি ইঙ্গিত করেন।

 

তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমি যদি নিজে ব্যালটে থাকতাম, অর্থাৎ আমি যদি নিজে সরাসরি প্রার্থী হতাম, তবে আমি নিশ্চিতভাবে বিপুল ভোটে জয়ী হতাম। নির্বাচনের আগে আমি সারা দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে যেসব বিশাল ও জনসমুদ্রতুল্য জনসভা করেছি, সেখানে আমি অগণিত সাধারণ সমর্থকদের কাছ থেকে প্রচুর স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা, সমর্থন ও উদ্দীপনা পেয়েছি।

 

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আমার প্রতি সাধারণ মানুষের সেই আবেগ ও ভালোবাসাকে আমরা আমাদের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের বাক্সে জয়ে রূপান্তরিত করতে পারিনি।" তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা এখনো দেশজুড়ে সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে, কিন্তু দলের অন্য প্রার্থীরা সেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

 

তবে বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের সামনে এমন কড়া ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলেও, এর আগের দিন মঙ্গলবার গভীর রাতে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল যখন স্পষ্ট হতে শুরু করে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নমনীয় রূপ প্রদর্শন করেছিলেন।

 

নিজের মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি দীর্ঘ ও লিখিত পোস্টে তিনি নির্বাচনে বিজয় লাভ করার জন্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টিকে অত্যন্ত শালীন ও খোলামেলা ভাষায় অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

 

সেই ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছিলেন, "নির্বাচনে চমৎকার জয়ের জন্য ডেমোক্র্যাটদের আন্তরিক অভিনন্দন। তারা নির্বাচনী প্রচারণায় সত্যিই খুব ভালো কাজ করেছে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে তারা কংগ্রেসে এই বিশাল জয়ের অপেক্ষায় ছিল এবং অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে তারা তা সফলভাবে অর্জন করতে পেরেছে।

 

ডেমোক্র্যাটরা নিঃসন্দেহে ভালো করেছে।" তার এই পরস্পরবিরোধী দ্বৈত অবস্থান মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে তিনি বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নির্বাচনী কৌশলের প্রশংসাও করছেন।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ওয়াশিংটনের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা গভীরভাবে মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুংকার এবং ডেমোক্র্যাটদের নবঅর্জিত আইনি ক্ষমতা মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন, জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার জন্ম দিতে যাচ্ছে।

 

আগামী দিনগুলোতে হোয়াইট হাউস এবং ক্যাপিটল হিলের মধ্যে নীতিগত সংঘাত ও রেষারেষি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বৈদেশিক নীতি, প্রতিরক্ষা বাজেট, অভিবাসন আইন, স্বাস্থ্যসেবা এবং জলবায়ু চুক্তির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোতে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেকোনো একতরফা সিদ্ধান্তে প্রবল আইনি বাধা সৃষ্টি করবে।

 

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার নির্বাহী ক্ষমতার সর্বোচ্চ ও চরম ব্যবহার করে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের যে সাংবিধানিক তরবারি ডেমোক্র্যাটরা শানিয়ে রাখছে, তা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

 

তবে এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে, ক্ষমতার এই বিশাল স্নায়ুযুদ্ধে কোনো পক্ষই সহজে একে অপরকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাস এবং কড়া হুঁশিয়ারি ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসনাল তদন্ত থেকে কতটা নিবৃত্ত করতে পারবে, তার ওপরই মূলত নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দিনগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

 

ওয়াশিংটনের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার ভেতরেই আবদ্ধ থাকবে না, বরং তা গোটা বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিকেও অত্যন্ত গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।