এদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসের শহরতলিতে আরপিনের বাড়িতে উড়ছে ট্রাম্পের পতাকা, শেলফে সাজানো 'MAGA' টুপি। কিন্তু সেই বাড়িতে এখন বিষাদের ছায়া। তার স্বামী আর্থার সাহাকিয়ান বলেন, "আমাদের সংসারটা ভেঙে গেছে। তিন বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা আরপিনে মাসিহির জীবন সংগ্রাম ও সাফল্যের এক দারুণ উদাহরণ। ২০০৮ সালে একটি অপরাধমূলক কাজের জন্য তার গ্রিন কার্ড বাতিল হলেও, তিনি ইরানি খ্রিস্টান হওয়ায় একজন বিচারক তাকে ইরানে ফেরত না পাঠিয়ে দেশটিতে থাকার অনুমতি দেন। কারণ ইরানে ফেরাটা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এরপর গত ১৭ বছরে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছেন। চারটি মার্কিন নাগরিক সন্তানের জননী আরপিনে এখন একজন সফল ব্যবসায়ী।
কিন্তু ট্রাম্পের "ইতিহাসের বৃহত্তম অপরাধী বিতাড়ন কর্মসূচি"র আওতায় গত ৩০ জুন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তারা তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। প্রথমে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল বিল্ডিংয়ে রাখা হয়, যেখানে তার ভাষায়, বন্দিদের সঙ্গে "পশুর মতো আচরণ" করা হয়েছিল। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, আরপিনের পরিবার এখনও ট্রাম্পের নীতির সমর্থক। তার স্বামী আর্থার মনে করেন, এই কড়াকড়ির জন্য বাইডেনের "উন্মুক্ত সীমান্ত নীতি" দায়ী। তাদের বিশ্বাস, এই অভিযানে শুধুমাত্র "খারাপ ও বিপজ্জনক অপরাধীদেরই" দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং আরপিনের মতো "ভালো মানুষরা" শেষ পর্যন্ত মুক্তি পাবে।
তবে একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী হওয়ায় আরপিনেকে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চারটি মার্কিন নাগরিক সন্তান এবং একটি সফল ব্যবসা থাকা সত্ত্বেও তার ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। স্বামী আর্থার জানান, তাদের ৪ বছর বয়সী মেয়েটি সমানে জিজ্ঞাসা করছে, "মা কখন বাড়ি আসবে?" ডিটেনশন সেন্টারে বসে আরপিনেও সেই উত্তরেরই অপেক্ষায়, যে নীতিকে তিনি মন থেকে সমর্থন করেন, সেই নীতিই হয়তো তাকে তার পরিবার থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।
---