রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদুরো সরকারকে হটাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় অভিযানের প্রস্তুতি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:০৭ পিএম

মাদুরো সরকারকে হটাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় অভিযানের প্রস্তুতি
ছবি: Reuters

লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের মাত্রা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা-কেন্দ্রিক সামরিক অভিযানের একটি ‘নতুন পর্যায়’ শুরু করতে যাচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়াশিংটন বড় ধরনের পদক্ষেপের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। যদিও অভিযানের সঠিক সময় বা পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে-প্রাথমিক ধাপে গোপন অভিযানের (Covert Operations) মাধ্যমে এই নতুন কৌশলের সূচনা হবে।

 

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে এই অভিযানের খবরটি সামনে এলো। পেন্টাগন ও সিআইএ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি না হলেও, হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার রোধে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে ‘আমেরিকান শক্তির প্রতিটি উপাদান’ ব্যবহার করতে প্রস্তুত।

 

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, নিকোলাস মাদুরো অবৈধ মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত, যা আমেরিকান নাগরিকদের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। তবে মাদুরো বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিবেচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

এদিকে, পরিস্থিতি যে সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে, তার বড় প্রমাণ পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) সতর্কবার্তায়। শুক্রবার এফএএ ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা দিয়ে উড্ডয়নের ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর পরপরই শনিবার তিনটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ভেনেজুয়েলা থেকে তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

 

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সোমবার ‘কার্টেল ডি লস সোলস’ (Cartel de los Soles)-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদুরো এই কার্টেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, এই সন্ত্রাসী তকমা যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন অনেক সামরিক ও কৌশলগত রাস্তা খুলে দেবে।

 

সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনীর বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ গত ১৬ নভেম্বর তার স্ট্রাইক গ্রুপসহ ক্যারিবিয়ান সাগরে পৌঁছেছে। সেখানে ইতিমধ্যে সাতটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক সাবমেরিন এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।

 

গত সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মার্কিন বাহিনী অন্তত ২১টি হামলা চালিয়েছে এবং এতে ৮৩ জন নিহত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

 

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তাঁকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। ৬৩তম জন্মদিন উদযাপনের মুহূর্তে তিনি দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং সেনাবাহিনী যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করবে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা-প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের অভাবে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী বেশ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

 

সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসন মোকাবিলায় মাদুরো সরকার ‘দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ’ বা গেরিলা যুদ্ধের কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে ছোট ছোট সামরিক ইউনিট অপহরণ বা অন্তর্ঘাতমূলক হামলা চালাবে। সব মিলিয়ে, ক্যারিবিয়ান উপকূলে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

 

- DAWN