মঙ্গলবার থ্যাঙ্কসগিভিং বা ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিবসের ছুটিতে ওয়াশিংটন থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। মাদুরোর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, "আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি, দেখা যাক কী হয়।"
একজন ঘোষিত ‘সন্ত্রাসী’ নেতার সঙ্গে কেন তিনি আলোচনায় বসতে চান-এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উত্তর দেন। তিনি বলেন, "যদি আমরা জীবন বাঁচাতে পারি এবং সহজ পথে সমস্যার সমাধান করতে পারি, তবে সেটাই শ্রেয়। আর যদি আমাদের কঠিন পথ বেছে নিতে হয়, তবে সেটির জন্যও আমরা প্রস্তুত।" তাঁর এই বক্তব্যে একইসঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রচ্ছন্ন হুমকি-উভয়ই ফুটে উঠেছে।
আলোচনার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, লক্ষ্য সবার কাছেই পরিষ্কার। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভেনিজুয়েলা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের কারাগার থেকে অপরাধী, মাদক কারবারি এবং দাগি আসামিদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তাঁর প্রশাসনের মতে, অভিবাসী পাঠানোর নামে অন্য দেশগুলো যে অপরাধীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করছে, তার মধ্যে ভেনিজুয়েলাই সবচাইতে বড় অভিযুক্ত।
ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "তারা আমাদের দেশে লাখ লাখ মানুষ পাঠিয়েছে, যাদের মধ্যে বড় মাদক ব্যবসায়ী ও জেলের কয়েদিরা রয়েছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নই।" উল্লেখ্য, গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনিজুয়েলা-ভিত্তিক 'কার্টেল ডি লস সোলস' বা 'সূর্যের কার্টেল'-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) হিসেবে ঘোষণা করে।
গত আগস্ট মাসে মাদক পাচার রোধ এবং কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার পর থেকেই দুই দেশের উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। কারাকাসের অভিযোগ, মাদক বিরোধী অভিযানের আড়ালে ওয়াশিংটন মূলত ভেনিজুয়েলার সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে।
সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী মাদকবাহী সন্দেহভাজন নৌযানে অন্তত ২১টি হামলা চালিয়েছে, যাতে ৮৩ জন নিহত হয়েছে। এমনকি ট্রাম্প প্রয়োজনে ভেনিজুয়েলার ভূখণ্ডে সরাসরি হামলারও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এমতাবস্থায় ট্রাম্পের আলোচনার এই প্রস্তাব পরিস্থিতি কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।