সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, এই অর্থ ভেনিজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল উন্নত মানের ও নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে। এই তেল বাজার মূল্যে বিক্রি হবে এবং বিক্রিলব্ধ অর্থ আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টোরেজ শিপ বা বিশেষ জাহাজে করে এই তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের আনলোডিং ডক বা খালাস কেন্দ্রে নিয়ে আসা হবে। এই ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগেই গত শনিবার ভোরে ভেনিজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ওই হামলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়।
একই সময়ে পরিচালিত এক বিশেষ সামরিক অভিযানে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাজধানী কারাকাস থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে প্রথম শুনানিতে তারা উভয়েই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটকের পরপরই তেলের এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক বিজয়।
ট্রাম্প প্রশাসন এই সামরিক অভিযানকে ‘মনরো মতবাদ’-এর পুনরুজ্জীবন এবং মাদক পাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেলের রিজার্ভ বা মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে এই তেল চুক্তির মাধ্যমে ওয়াশিংটন ভেনিজুয়েলার অর্থনীতির ওপর তাদের প্রভাব আরও সুসংহত করল।
ভেনিজুয়েলার এই তেল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করলে তা বৈশ্বিক তেলের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ভেনিজুয়েলার সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি বা পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে মাদুরোর গ্রেফতার এবং অন্যদিকে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া-সব মিলিয়ে ভেনিজুয়েলা এখন এক গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।