বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইন অনুষদের ডিন হলেন সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

আইন অনুষদের ডিন হলেন সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।
ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) আইন অনুষদের ডিন হিসেবে সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি উপেক্ষা করে অন্য বিভাগের শিক্ষককে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইরফান আজিজ ডিনের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বর্তমানে দায়িত্ব পেয়েছেন সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, যা নিয়ে বিধি প্রয়োগের প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

 

শিক্ষার্থীদের দাবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ২২(৫) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অনুষদের বিভাগগুলোর অধ্যাপকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন নিয়োগের বিধান রয়েছে; কোনো বিভাগে অধ্যাপক না থাকলে জ্যেষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ আছে।

 

এই বিধান থাকা সত্ত্বেও অন্য অনুষদের শিক্ষককে আইন অনুষদের ডিন করার সিদ্ধান্ত কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। আইন ও বিচার বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এক অনুষদের শিক্ষক অন্য অনুষদের ডিন হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না, অথচ এই বিধি উপেক্ষা করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি অবিলম্বে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগের দাবি জানান। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিক বলেন, প্রশাসনিক নিয়োগ অবশ্যই প্রচলিত আইন-বিধি মেনে হওয়া উচিত, এবং তাঁদের অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগের শিক্ষককে ডিন করা প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি আরও জানান, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয়-তাঁদের একমাত্র দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ডিন নিয়োগ। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, নিয়মানুযায়ী সিনিয়র অধ্যাপক, না থাকলে সহকারী অধ্যাপক ডিন হওয়ার কথা।

 

তবে আইন বিভাগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আপত্তি থাকায় সমালোচনা এড়াতে সাময়িকভাবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আইন ও বিচার বিভাগ আগে কলা অনুষদের অধীনে থাকায় ডিন পদ নির্দিষ্ট বিভাগের হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই, এবং প্রয়োজনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

তিনি নবনিযুক্ত ডিনকে শিক্ষার্থীবান্ধব ও সজ্জন ব্যক্তি বলেও উল্লেখ করেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই নিয়োগ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী নতুন ডিন নিয়োগের দাবিতে অনড় রয়েছেন।