অসামান্য অভিনয় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কেবল বয়সের অজুহাতে অনেক যোগ্য ও মেধাবী অভিনেত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র থেকে বাদ পড়তে হয়। অন্যদিকে, পুরুষ অভিনয়শিল্পীদের ক্ষেত্রে বয়সের এই মাপকাঠি যেন একেবারেই ভিন্ন।
এবার বলিউডের এই দ্বৈত নীতি, লিঙ্গ বৈষম্যমূলক আচরণ এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেত্রী তাপসী পান্নু।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান কিংবা অক্ষয় কুমারের মতো প্রথম সারির পুরুষ তারকারা যুগের পর যুগ ধরে চলচ্চিত্র জগতে চরম দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রেক্ষাগৃহে এখনো কেবল তাঁদের নামেই বিপুল দর্শক সমাগম হয় এবং তাঁদের অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো ব্যাপক ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করে। অথচ নারী অভিনয়শিল্পীদের ক্ষেত্রে বাস্তব চিত্রটি এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
সেখানে সুযোগের পরিধি অত্যন্ত সীমিত এবং বয়সের নিষ্ঠুর মাপকাঠিতে তাঁদের প্রতিনিয়ত বিচার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সুস্পষ্ট বৈষম্য নিয়েই এবার নিজের গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তাপসী।
সম্প্রতি একটি সুপরিচিত সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের কঠিন সংগ্রামের কথা অকপটে তুলে ধরেন এই প্রতিভাবান অভিনেত্রী। তাপসী জানান, যখন তিনি বলিউডের বিশাল জগতে প্রথম পা রাখেন, তখন তাঁর বয়স ছিল বিশের কোঠায়।
কিন্তু এই প্রতিযোগিতামূলক রূপালি পর্দায় নিজেকে প্রমাণ করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেতে পেতে তাঁর জীবনের মূল্যবান দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর সময় অতিবাহিত হয়ে যায়।
সেই দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ করে তাপসী বলেন, শুরুর দিকে তাঁকে এতটাই কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছিল যে, যত দিনে তিনি চলচ্চিত্র জগতে নিজের জন্য একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তত দিনে তাঁর বয়স ত্রিশের গণ্ডি পার হয়ে যায়।
এরপর যখনই তিনি নতুন কোনো আকর্ষণীয় চরিত্রের জন্য নির্মাতাদের কাছে যেতেন, তখন অনেকেই তাঁকে সরাসরি বলতেন যে ওই সুনির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য তাঁদের আরও কম বয়সী মেয়ের প্রয়োজন।
তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এমন চরম বৈষম্যমূলক আচরণ তিনি পুরুষ অভিনেতাদের ক্ষেত্রে কখনোই হতে দেখেন না। কর্মজীবনের একটি দীর্ঘ সময় জুড়ে এই ধরনের লিঙ্গ ও বয়স ভিত্তিক বৈষম্য এবং অবহেলা তাঁকে প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণার শিকার করেছিল বলেও জানান এই গুণী অভিনেত্রী।
তবে সময়ের আবর্তনে অতীতের সেই গভীর মানসিক ক্ষত কাটিয়ে তিনি এখন অনেকটাই পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী। বর্তমানে নিজের অনন্য অভিনয় দক্ষতা, মেধা ও পেশাদারিত্বের ওপর ভর করেই তিনি বিনোদন জগতের এই অসম প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং একের পর এক সফল চলচ্চিত্র দর্শকদের উপহার দিচ্ছেন।