বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আকর্ষণীয় সাজের নেপথ্য গল্প জানালেন নুসরাত ফারিয়া

আর এন এস বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

আকর্ষণীয় সাজের নেপথ্য গল্প জানালেন নুসরাত ফারিয়া
ছবি: সংগৃহীত

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া সম্প্রতি তাঁর বহুমুখী প্রতিভার আরও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া নতুন গান ‘লোকে বলে’ ইতিমধ্যেই দর্শক ও শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

 

আধুনিক ধারার এই গানে তিনি কেবল নিজের চমৎকার কণ্ঠশৈলীই প্রদর্শন করেননি, বরং গানটির চিত্রায়নে তাঁর নজরকাড়া উপস্থিতি এবং সাহসী সাজ সব মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

 

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ও সুরকার ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের অনবদ্য সংগীতায়োজনে গানটিতে নুসরাত ফারিয়া নিজেই কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটি প্রকাশের পর থেকেই এর শ্রুতিমধুর সুর ও নান্দনিক দৃশ্যধারণের পাশাপাশি অভিনেত্রীর ব্যতিক্রমী রূপসজ্জা নিয়ে দেশের বিনোদন অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে।

 

সেই সাফল্যের রেশ ধরে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই আকর্ষণীয় পোশাক ও সাজসজ্জার পেছনের অজানা গল্প ভক্ত ও অনুরাগীদের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে ভাগ করে নিয়েছেন এই তারকা।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন ছবি প্রকাশ করে নুসরাত ফারিয়া জানিয়েছেন, কীভাবে তাঁর এই বহুল আলোচিত সাজটি ধাপে ধাপে নিপুণভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

 

ছবিগুলোর বর্ণনায় তিনি সুস্পষ্টভাবে লেখেন যে, এটি ছিল গানটির প্রথম ঝলক এবং প্রথম সাজ। তাঁর এই বিশেষ পোশাকটির পেছনের গল্পটি বেশ চমকপ্রদ ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

 

তিনি জানান, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে অত্যন্ত সযত্নে আলমারিতে তুলে রাখা ফুলের ছাপযুক্ত পুরোনো একটি ঘাগরার সঙ্গে স্বনামধন্য পোশাক পরিকল্পক সাফিয়া সাথীর সংগ্রহশালা থেকে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া একটি ঝালর দেওয়া নকশার অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো হয়।

 

পুরোনো একটি পোশাককে ফেলে না দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও আকর্ষণীয় রূপ দেওয়ার এই ভাবনাটি ছিল অত্যন্ত সৃজনশীল এবং পরিবেশবান্ধব পোশাকরীতির একটি দারুণ উদাহরণ।

 

এই চমৎকার পোশাক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল প্রখ্যাত নৃত্যপরিচালক বাবা যাদবের একটি সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত ভাবনা। নুসরাত ফারিয়ার মতে, সবার সম্মিলিত এই শৈল্পিক ভাবনার চমৎকার মিশেলেই ‘লোকে বলে’ গানের এই অনবদ্য, দেশীয় আমেজযুক্ত অথচ চাকচিক্যময় রূপটি নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

 

নিজের পোশাকের সুনিপুণ কারুকাজ ও ব্যবহৃত অলংকারের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে এই চিত্রনায়িকা আরও জানান যে, পোশাক পরিকল্পক সাফিয়া সাথীর নিজ হাতে করা পাথর ও জারদৌসির নিপুণ কারুকাজে তৈরি ওপরের পোশাকটি পুরো সাজে একটি রাজকীয় ও আভিজাত্যের মাত্রা যোগ করেছিল।

 

এর সঙ্গে ‘ড্যাজেল বাই সোনিয়া’ নামক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা দৃষ্টিনন্দন অলংকার তাঁর পুরো উপস্থিতিতে এক ধরনের নাটকীয়তা ও নান্দনিক পূর্ণতা এনে দেয়।

 

পুরোনো স্মৃতিবিজড়িত পোশাকের সঙ্গে নতুন ও আধুনিক চিন্তাধারার এই অসাধারণ সমন্বয়ে বিনোদন জগতে এক অনন্য জাদুকরী রূপের জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

 

দর্শকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও ইতিবাচক সাড়া তাঁর আগামী দিনের শৈল্পিক পথচলাকে আরও বেশি মসৃণ ও আনন্দদায়ক করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।