বর্তমানের এই তারকাখ্যাতির আড়ালে লুকিয়ে আছে তার অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের চরম সংগ্রাম ও অভাবনীয় কঠিন দিনগুলোর গল্প। ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে একের পর এক ব্যর্থতার স্বাদ গ্রহণ করতে হয়েছিল।
এমনকি এমন একটি সময়ও এসেছিল, যখন চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য তাকে সহশিল্পীর স্ত্রীর পোশাক পর্যন্ত ধার করতে হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে 'অবোধ' নামক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হিন্দি সিনেমা জগতে পা রাখেন মাধুরী দীক্ষিত।
কিন্তু প্রথম দিককার কাজগুলো প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেতা শেখর সুমন। তিনি জানান, প্রযোজক সারভান সিং রাহুলের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি।
প্রযোজক তাকে জানিয়েছিলেন যে, এই চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করবেন মাধুরী দীক্ষিত নামের এক নতুন মুখ। এরপর শেখর সুমন প্রযোজককে সঙ্গে নিয়ে মাধুরীর বাড়িতে যান। প্রথম দেখাতেই মাধুরীর প্রতিভা ও মোহনীয় রূপে মুগ্ধ হয়ে শেখর তাৎক্ষণিকভাবে চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
তবে সেই চলচ্চিত্রটির নির্মাণকাজ মোটেও সহজ ছিল না। চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে পুরো দলকে কাজ করতে হয়েছিল। শেখর সুমন স্মৃতিচারণ করে জানান, প্রযোজকের আর্থিক বরাদ্দ বা তহবিল এতটাই সীমিত ছিল যে, বাধ্য হয়ে তাদের বাড়িতেই সিনেমার দৃশ্যধারণ সম্পন্ন করতে হয়েছিল।
সে সময় মাধুরীর আর্থিক অবস্থাও এতটা সচ্ছল ছিল না যে তিনি যাতায়াতের জন্য ভাড়ার গাড়ি ব্যবহার করবেন। তাই প্রতিদিন সকালে শেখর সুমন নিজে তার দুচাকার বাহনে করে মাধুরীকে বাড়ি থেকে কাজের স্থানে নিয়ে আসতেন এবং কাজ শেষে আবার নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিতেন।
আর্থিক টানাপোড়েনের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, চলচ্চিত্রে নায়িকার জন্য আলাদা কোনো রূপসজ্জাকার বা পোশাক পরিকল্পনাকারী রাখার ন্যূনতম সামর্থ্যও প্রযোজকের ছিল না। এই সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে আসেন শেখর সুমনের স্ত্রী অলকা।
তিনি সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে মাধুরীর রূপসজ্জার কাজ করে দিতেন। শুধু তাই নয়, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন পোশাক কেনা সম্ভব না হওয়ায়, সিনেমার অনেকগুলো দৃশ্যে মাধুরীকে শেখর সুমনের স্ত্রী অলকার ব্যক্তিগত পোশাক ধার করে অভিনয় করতে হয়েছিল।
আজকের এই মহাতারকার ক্যারিয়ারের পেছনের এমন হার না মানা সংগ্রামের গল্প সত্যিই বিনোদন জগতের অনেকের জন্যই এক বিশাল অনুপ্রেরণা।