বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য জানতে দেহাবশেষ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের

আর এন এস বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য জানতে দেহাবশেষ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটনে তাঁর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুনভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক ও মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।

 

বুধবার (১০ জুন) সিআইডির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সিআইডি কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণের স্বার্থেই তাঁরা আদালতের কাছে এই অনুমতি চেয়েছিলেন।

 

প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক কিছু কার্যক্রম শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেহাবশেষ উত্তোলনের মাধ্যমে ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ, যাঁর পারিবারিক নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

 

সে সময় তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করলেও, পরবর্তীতে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন এবং মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আইনি আবেদন জানান।

 

আদালতের প্রাথমিক নির্দেশে অপমৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি সে সময় একসঙ্গে তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে নিছক আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

 

একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। তবে সিআইডির এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নারাজি ও রিভিশন মামলা দায়ের করেন নিহত নায়কের বাবা।

 

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন এবং ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

 

আদালতের ওই সুস্পষ্ট নির্দেশের পর ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় নায়কের স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় সরাসরি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আসামিদের তালিকায় সামীরা ছাড়াও রয়েছেন শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, চলচ্চিত্রাভিনেতা ডন, রুবিসহ আরও বেশ কয়েকজন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন সালমান শাহর মা নিলুফার জামান চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁর নিউ ইস্কাটনের বাসায় গেলে তাঁদের জানানো হয় যে সালমান ঘুমাচ্ছেন।

 

পরবর্তীতে প্রোডাকশন ম্যানেজারের মাধ্যমে জরুরি খবর পেয়ে তাঁরা বাসায় ফিরে সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় তাঁর গলায় দড়ির সুস্পষ্ট দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ ছিল।

 

তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। সালমানের বাবার মৃত্যুর পর বর্তমানে তাঁর মামা পরিবারের পক্ষে আইনি এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁরা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন বলেও জানানো হয়েছে।