সম্প্রতি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র 'পেদ্দি'-তে চিত্রায়িত বেশ কয়েকটি দৃশ্য এবং সেখানে এই নায়িকার শারীরিক উপস্থাপনার ধরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ও তীব্র বিতর্কের জন্ম হয়েছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রতি হওয়া অবিচার নিয়ে চরম ক্ষোভ ও গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন এই তারকা অভিনেত্রী। তাঁর অভিমত অনুযায়ী, শুটিংয়ের সেটে অভিভাবক, বিশেষ করে নিজের মা সাথে উপস্থিত থাকলে এ ধরনের বহু অপ্রীতিকর, অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর পরিস্থিতি খুব সহজেই এড়িয়ে চলা সম্ভব হতো।
ভারতীয় গণমাধ্যমের একাধিক আন্তর্জাতিক মানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলচ্চিত্রটির নির্দিষ্ট দৃশ্যগুলো নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে জাহ্নবীর একটি ব্যক্তিগত কথোপকথনের চিত্র বা বার্তার অনুলিপি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ফাঁস হয়ে যাওয়া ওই বার্তায় সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট দৃশ্য ধারণের আগে তিনি চিত্রগ্রাহক বা নির্মাতাদের কাউকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছিলেন যেন কোনোভাবেই তাঁর বক্ষদেশ কিংবা কোমরের কোনো দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা না হয়।
কিন্তু অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, বাস্তবে তাঁর সেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ঠিক উল্টো কাজটিই করা হয়েছে। তাঁর সম্পূর্ণ অসম্মতি থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই সংবেদনশীল দৃশ্যগুলো ধারণ করা হয়েছে, যা একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সম্মতি এবং পেশাদারত্বের অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।
দৃশ্য ধারণের নামে হওয়া এই চরম প্রতারণার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জাহ্নবী কাপুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শুটিংয়ের অন্তরালে সেখানে কী ধরনের অনৈতিক ও অপেশাদার কাজ হয়, তা হয়তো অনেকেই জানেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শুরুতে মুখের খুব কাছের দৃশ্য বা ক্লোজ-আপ শট নেওয়ার কথা বলে শিল্পীদের আশ্বস্ত করেন, কিন্তু পরক্ষণেই অত্যন্ত অশালীনভাবে শরীরের সংবেদনশীল অংশে ক্যামেরার লক্ষ্য স্থির করে দৃশ্য ধারণ করেন।
এমন একটি অনিরাপদ ও প্রতারণাপূর্ণ পরিবেশে কাউকেই আর পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না বলে তিনি গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন। এই প্রাসঙ্গিক আলোচনার একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরাগীদের সাথে মতবিনিময়কালে জাহ্নবী কাপুর আরেক জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেত্রী শ্রীলীলার উদাহরণ টেনে আনেন।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, শ্রীলীলার মা সর্বদাই তাঁর মেয়ের সাথে শুটিং সেটে উপস্থিত থাকেন এবং পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখেন। মায়ের এই সার্বক্ষণিক উপস্থিতির ফলে শ্রীলীলা কর্মক্ষেত্রে অনেক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রতারণামূলক বা বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সর্বদা সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
নিজের অসহায়ত্বের কথা অকপটে স্বীকার করে জাহ্নবী আক্ষেপের সুরে বলেন, একজন মায়ের উপস্থিতি যেকোনো শিল্পীকে এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। হয়তো ঠিক এই সুরক্ষার কারণেই শ্রীলীলার মা প্রায়ই তাঁর মেয়ের শুটিং সেটে উপস্থিত থাকেন।
জাহ্নবীর এই সাহসী ও সংবেদনশীল মন্তব্য বিনোদন জগতের নারী শিল্পীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সম্মতি লঙ্ঘনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।