শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘শৈশবে আমিও অশালীন স্পর্শের শিকার হয়েছিলাম’, অভিনেত্রী প্রিয়ন্তি উর্বী

আর এন এস বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

‘শৈশবে আমিও অশালীন স্পর্শের শিকার হয়েছিলাম’, অভিনেত্রী প্রিয়ন্তি উর্বী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিনোদন জগতের তারকারাও সোচ্চার হয়েছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় এবার সরব হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী প্রিয়ন্তি উর্বী। তিনি কেবল এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদই জানাননি, বরং শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা বোঝাতে নিজের শৈশবের এক গভীর ক্ষত ও নিদারুণ যন্ত্রণার কথাও প্রকাশ্যে এনেছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় এই অভিনেত্রী জানান, শিশু নির্যাতন বা ধর্ষণের খবর শুনলেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘কিছু ঘটনা মানুষ ভুলে যায় না, শুধু চুপ করে বাঁচতে শেখে। আমিও শিখেছিলাম।

 

তাই নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখি, যেন মাথার ভেতরের শব্দগুলো একটু শান্ত হয়।’ শৈশবে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, ‘ছোটবেলায় আমিও অশালীন স্পর্শের শিকার হয়েছিলাম।

 

তখন বুঝতাম না ঠিক কী হচ্ছে, শুধু মনে হতো এটি স্বাভাবিক না। বাবা-মা তো কখনো এভাবে ধরেনি।’ শিশুদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের সুদূরপ্রসারী মানসিক প্রভাব নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রিয়ন্তি উর্বী।

 

তিনি উল্লেখ করেন, চার-পাঁচ বছরের একটি অবুঝ শিশুর মনে এ ধরনের ঘটনা কতটা ভীতি ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে, তা কেবল ভুক্তভোগীই উপলব্ধি করতে পারে। বছরের পর বছর ধরে তাদের মনে না-বলা কান্না ও প্রশ্ন জমে থাকে।

 

সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে কঠোর বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি আজও বিশ্বাস করি, ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ তারা শুধু একটি মানুষকে নয়, একটি শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস আর শৈশবকে চিরতরে মেরে ফেলে।’

 

একই সঙ্গে অপরাধীরা একদিন এই পৃথিবীতেই তাদের কর্মফল ভোগ করবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন। বার্তার শেষাংশে এই অভিনেত্রী নিজের প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে চরম শূন্যতা ও হতাশা প্রকাশ করেন।

 

বর্তমানের কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও তিনি এক গভীর মানসিক ক্লান্তির কথা জানিয়ে লেখেন, ‘আজ বাবার অভাব খুব বেশি অনুভব করছি। অভিনয়, কাজ, ব্যস্ততা-সবকিছুর মাঝেও মাঝে মাঝে মনে হয় কোথাও হারিয়ে যাই।

 

এমন একটি জায়গায়, যেখানে কেউ আমাকে চেনে না। হয়তো সেখানে একটু শান্তি পাওয়া যেত।’ সমাজে শিশু সুরক্ষার চরম ব্যর্থতার এই সময়ে একজন শিল্পীর এমন সাহসী ও যন্ত্রণাদগ্ধ স্বীকারোক্তি দেশের সচেতন মহলে গভীরভাবে দাগ কেটেছে।