পেশাগত কর্মক্ষেত্রে তিনি কাউকেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেন না। তার মতে, ক্যামেরার পেছনের বাস্তব দুনিয়ায় প্রত্যেকেই কেবল সাধারণ মানুষ, যেখানে পেশাগত রেষারেষি বা অসুস্থ প্রতিযোগিতার চেয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্মান ও মানবিক সম্পর্ককেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
এই ইতিবাচক জীবনদর্শন তাকে শোবিজ অঙ্গনের প্রচলিত ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা করে তুলেছে। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের পেশাগত জীবনের ভাবনা, কাজের পরিবেশ এবং সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের বোঝাপড়া নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনা করেছেন মিথিলা।
তার সুচিন্তিত অভিমত হলো, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কিছু স্বতন্ত্র যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতা রয়েছে, যা তাকে তার নিজ নিজ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সফলতার শিখরে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
কাজের ক্ষেত্রে নিজের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এই অভিনয়শিল্পী বলেন, তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন যে প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটি সক্ষমতা রয়েছে এবং সেই সহজাত যোগ্যতার ওপর ভর করেই একজন মানুষ জীবনে সফলতা অর্জন করেন।
তাই অন্য কারও সঙ্গে অহেতুক প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ তিনি দেখেন না। মিথিলা দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তার ভেতরে যদি প্রকৃত যোগ্যতা থাকে, তবে তিনি তার ওপর অর্পিত যেকোনো কাজ অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।
বিপরীতে, যদি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার না থাকে, তবে শত চেষ্টা সত্ত্বেও সেই কাজে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য কখনোই আসবে না। নিজের পেশাগত বলয়ে অন্য কোনো শিল্পীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে সম্পূর্ণ নারাজ এই তারকা।
নিজের কাজের পরিমণ্ডলকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বকীয় রেখে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কাজের জায়গায় কেউ তার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; সবাই যার যার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন এবং তিনিও কেবল নিজের কাজেই মনোযোগ নিবদ্ধ রাখতে পছন্দ করেন।
নারী সহকর্মীদের মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং আবেগের মেলবন্ধনকে তিনি একটি ভিন্ন ও অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করেন। পুরুষদের কোনোভাবেই খাটো না করে নারীদের প্রতি নিজের এক বিশেষ ও সহজাত অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন মিথিলা।
তিনি মনে করেন, একজন নারী অন্য একজন নারীর সঙ্গে যতটা সহজে মানসিক ও আবেগিক মেলবন্ধন তৈরি করতে পারেন এবং মনের গভীরতম স্তরের অবদমিত কথাগুলো নির্দ্বিধায় ভাগ করে নিতে পারেন, তা সচরাচর পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তিনি কোনোভাবেই পুরুষদের নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন না, বরং কেবল নারীদের মধ্যকার এই সহজাত বন্ধনের কারণেই নারীদের প্রতি তার হৃদয়ে সবসময়ই একটি বিশেষ, সহানুভূতিশীল ও গভীর অনুভূতি বিরাজমান।