সম্প্রতি এই পেশার বিভিন্ন অসংগতি, পোশাকের বাধ্যবাধকতা এবং নার্সদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, সেবিকাদের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রচলিত অবমাননাকর মানসিকতার আমূল পরিবর্তন বর্তমানে সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতো পেশাদারিত্বের মাপকাঠিতে বিচার করলে, তার এই বক্তব্য স্বাস্থ্য খাতের একটি অবহেলিত দিকের প্রতি সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের সুবাদে কঙ্গনা অত্যন্ত কাছ থেকে নার্সদের দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতা এবং পেশাগত চ্যালেঞ্জগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, চিকিৎসা খাতে চিকিৎসকদের তুলনায় নার্সদের পেশাদারি পোশাকের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার চরম অভাব রয়েছে।
চিকিৎসকেরা নিজেদের সুবিধামতো পোশাক পরার সুযোগ পেলেও, নার্সদের একটি নির্দিষ্ট এবং অনেকাংশেই অস্বস্তিকর ইউনিফর্ম পরিধান করে দীর্ঘক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে হয়।
এই বৈষম্যের কথা তুলে ধরে আক্ষেপ করে কঙ্গনা জানান, উপমহাদেশে এখনও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের সেই পুরোনো পোশাকবিধি চালু রয়েছে। তীব্র শীত, প্রখর গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা-সব ঋতুতেই তাদের বিদেশি ধাঁচের একই পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়।
শুটিংয়ের সময় এই বিষয়গুলো অত্যন্ত সততা ও মর্যাদার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। নার্সদের ইউনিফর্মে ব্যবহৃত পিন, টুপি বা বেল্টকে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নার্সদের কাজের পরিবেশ ও পরিস্থিতি যেমন ছিল, আধুনিক যুগে এসেও যেন তা অনেকটা একই রকম রয়ে গেছে।
তিনি মনে করেন, বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টায় নার্সদের শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে এই পোশাকবিধিতে দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া আনা একান্ত প্রয়োজন।
শুধুমাত্র সেকেলে পোশাকবিধির সমালোচনাই নয়, নার্সিং পেশাকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত সস্তা ও অবমাননাকর মানসিকতার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এই প্রশংসিত অভিনেত্রী।
কঙ্গনা অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই মহৎ ও পবিত্র পেশাকে প্রায়শই কুরুচিপূর্ণভাবে যৌনতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়, যা একটি সুস্থ সমাজের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তার ভাষায়, সমাজের এই ধরনের নিচু ও বিকৃত মানসিকতার দ্রুত পরিবর্তন হওয়া উচিত। স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি পর্দার আড়ালে থাকা লাখো কর্মীর নীরব অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ হাসপাতাল বলতে কেবল চিকিৎসকদেরই বোঝে।
কিন্তু তাদের পাশাপাশি যে বিশাল সংখ্যক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিরলস পরিশ্রমে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সচল রাখেন, তাদের অবদানকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই।
এই আত্মত্যাগী মানুষদের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ ও সম্মানজনক করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক ও সম্মানজনক পরিবর্তন আনা অপরিহার্য বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।