বাংলাদেশের সংগীত জগতে দীর্ঘ ছয় দশকের এক বর্ণাঢ্য ও ঈর্ষণীয় সংগীতজীবনের অধিকারী এই নন্দিত শিল্পী তাঁর দীর্ঘ পথচলায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে সরাসরি একক সংগীত পরিবেশন করতে যাচ্ছেন।
বরেণ্য এই শিল্পীর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একই অনুষ্ঠানে তাঁকে একটি বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করা হবে। তবে এবারের এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনটি নিছক কোনো সম্মাননা প্রদান অথবা কেবল একটি গতানুগতিক সাংস্কৃতিক বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
বরং মানবতার সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, রুনা লায়লার এই বহু প্রতীক্ষিত একক সংগীতানুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ দেশের বন্যাকবলিত অসহায় ও সর্বস্বান্ত মানুষদের সহায়তার জন্য ব্যয় করা হবে।
জাতীয় দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে শিল্প ও সংস্কৃতির এমন মানবিক দায়বদ্ধতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিফলিত হওয়ার মতো একটি ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘রুনা লায়লা’ শীর্ষক এই সম্মাননা প্রদান ও বিশেষ একক সংগীতানুষ্ঠানটি আগামী ২৪ জুলাই রাজধানী ঢাকায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ওই দিন ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনের সুবিশাল মঞ্চে সুরের মূর্ছনা ছড়াতে মঞ্চে উঠবেন এই প্রথিতযশা শিল্পী। দীর্ঘ ও সাফল্যমণ্ডিত সংগীতজীবনে অসংখ্য কালজয়ী, শ্রোতাপ্রিয় এবং ইতিহাস সৃষ্টিকারী গান উপহার দিয়েছেন রুনা লায়লা।
আসন্ন এই বিশেষ সন্ধ্যায় তিনি তাঁর সেই বিপুল জনপ্রিয় ও কালজয়ী গানের ভান্ডার থেকে বাছাই করা কয়েকটি বিশেষ গান সরাসরি পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই চরম সংকটময় সময়ে সংগীতের মতো একটি সুকুমার ও সৃজনশীল মাধ্যমকে ব্যবহার করে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার এই দৃষ্টান্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
আয়োজকেরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অনুষ্ঠান থেকে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল অর্থের পুরোটাই বন্যাকবলিত মানুষের পুনর্বাসন, চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে, যাতে দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুততম সময়ে এই সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হয়।
মানবিক ও মহৎ এই আয়োজনে সাধারণ দর্শক, শ্রোতা এবং সমাজের বিত্তবান শ্রেণির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুবিধার্থে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি টিকিটের শুভেচ্ছা মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুবিন্যস্ত রূপরেখা প্রকাশ করেছে।
সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মোট তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিতে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের টিকিট সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম সারির বা প্রথম শ্রেণির টিকিটের শুভেচ্ছা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।
পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে তিন হাজার টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের মূল্য দুই হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। সংগীতানুরাগী, সংস্কৃতিপ্রেমী এবং মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষেরা আগামী ২২ এবং ২৩ জুলাই এই মহামূল্যবান টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
উল্লিখিত দুই দিন সকাল দশটা থেকে শুরু করে একটানা সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অর্থ, হিসাব ও পরিকল্পনা বিভাগের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে এই টিকিট ক্রয় করার অবারিত সুযোগ রাখা হয়েছে।
আয়োজকেরা আশা করছেন, বন্যার্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই টিকিট ক্রয় করে মহৎ এই উদ্যোগকে সফল করে তুলবেন। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম বৃহৎ, তাৎপর্যপূর্ণ এবং সংবেদনশীল এই আয়োজনে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশের উপস্থিতি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ ও সম্মানজনক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসন অলংকৃত করবেন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তাঁর উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে আরও বেশি ভাবগাম্ভীর্য ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার বার্তা প্রদান করবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং সরকারের উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার সম্মানীয় কর্মকর্তা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সুযোগ্য সচিব কানিজ মওলা। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক পর্বে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথি, সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গ ও দর্শকদের উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক এবং দেশের বিশিষ্ট ও স্বনামধন্য কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ, যিনি বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্য অঙ্গনে রেজাউদ্দিন স্টালিন নামেই সমধিক পরিচিত ও সমাদৃত।