পরিস্থিতি এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ভারতের ‘ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ’ বা এফডব্লিউআইসিই এই তারকা অভিনেতার বিরুদ্ধে সরাসরি একটি ‘অসহযোগিতা নির্দেশিকা’ জারি করে বসে।
যদিও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই কঠোর নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তবে রণবীরের পেশাদারিত্ব ও কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো চলচ্চিত্রপাড়ায় পুরোপুরি থামেনি।
ক্যারিয়ারের এমন এক অস্বস্তিকর ও কঠিন সময়ে এই অভিনেতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী এবং ‘সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (সিন্টা)-এর বর্তমান সভাপতি পুনম ধিলোঁ।
রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ ও সমালোচনা ভিত্তিহীন দাবি করে পুনম ধিলোঁ অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তাঁর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। প্রবীণ এই অভিনেত্রীর মতে, ‘ডন ৩’ চলচ্চিত্র থেকে সরে যাওয়ার এই পুরো ঘটনাটিতে রণবীরকে সম্পূর্ণ অহেতুকভাবে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।
তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, রণবীর সিং কোনোভাবেই একজন অপেশাদার বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ নন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে রণবীর সবসময়ই নিজের কাজ ও দর্শকদের প্রতি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করে এসেছেন।
ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রযোজনা সংস্থা, পরিচালক বা সহশিল্পীর ক্ষতি করার মতো নেতিবাচক মানসিকতা রণবীরের একেবারেই নেই। বরং ‘ডন ৩’-এর স্বনামধন্য প্রযোজনা সংস্থা ‘এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট’-এর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এই অভিনেতার অত্যন্ত গভীর, সম্মানজনক ও দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে।
অতীতে এই একই ব্যানারের অধীনে নির্মিত ‘দিল ধাড়াকনে দো’ এবং ‘গালি বয়’-এর মতো তুমুল ব্যবসাসফল ও সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে রণবীর নিজের অভিনয় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ দিয়েছেন।
কোনো চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর সেখান থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে একজন শিল্পীর নানাবিধ যৌক্তিক ও সৃজনশীল কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন সিন্টা সভাপতি পুনম ধিলোঁ।
তাঁর মতে, কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প, পাণ্ডুলিপি বা চরিত্রের রূপায়ণ নিয়ে একজন অভিনেতা যেকোনো সময়ে অস্বস্তি বোধ করতেই পারেন, যা শিল্পের জগতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি ঘটনা।
কিন্তু এই নির্দিষ্ট বিতর্কের ক্ষেত্রে রণবীর সিং নিজের পেশাদারি সততা ও নৈতিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। প্রযোজকদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করে রণবীর শুধু সেই প্রজেক্ট থেকে বিনয়ের সঙ্গে সরেই দাঁড়াননি, বরং নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রযোজনা সংস্থাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও এক বিরল ও উদার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এমনকি ছবিটির প্রাথমিক চুক্তির সময় তিনি যে অর্থ বা সাইনিং অ্যামাউন্ট গ্রহণ করেছিলেন, সেটিও বিনা শর্তে ও বিনা দ্বিধায় ফিরিয়ে দিতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন।
পুনম ধিলোঁর এই বিস্তারিত ও তথ্যনির্ভর বক্তব্যগুলো থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, রণবীর সিংয়ের মতো একজন প্রথম সারির অভিনেতার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলাটা কেবল অবিচারই নয়, বরং তা ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীর প্রতি চরম অসম্মানেরও শামিল।