রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০০টি নারিকেল গাছের চারা চাইলেন অসুস্থ অভিনেতা কাজী উজ্জ্বল

আর এন এস বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০০টি নারিকেল গাছের চারা চাইলেন অসুস্থ অভিনেতা কাজী উজ্জ্বল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রখ্যাত ও বর্ষীয়ান অভিনেতা কাজী উজ্জ্বল দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে কঠিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। অভিনয়জগতে বর্তমানে তাঁর উপস্থিতি খুব একটা চোখে না পড়লেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেশ সরব রয়েছেন।

 

সম্প্রতি শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। সেখানে তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি অভিনব আবেদন জানিয়েছেন।

 

নিজের চিকিৎসার জন্য কোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণের তাগিদে ১০০টি উন্নত জাতের নারিকেল গাছের চারা চেয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগলেও কেন তিনি আর্থিক সাহায্যের পরিবর্তে গাছের চারা চাইলেন, তার একটি সুস্পষ্ট ও আবেগপূর্ণ ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী।

 

সংবাদমাধ্যমের কাছে কাজী উজ্জ্বল জানান, যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় তাঁর ১২ বিঘার বিশাল আয়তনের একটি নিজস্ব বাগান রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা নানা প্রজাতির দুর্লভ গাছপালা দিয়ে তিনি একজন প্রকৃত শিল্পীর মতো নিপুণভাবে পুরো বাগানটি সাজিয়েছেন।

 

বর্তমানে তিনি সেই সবুজে ঘেরা বাগানের মাঝেই বসবাস করেন। প্রকৃতির প্রতি নিজের গভীর অনুরাগের কথা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রাতের নির্জনতায় তাঁর মনে হয় যেন চারপাশের গাছগুলো তাঁকে ভালোবেসে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে আছে।

 

মূলত সেই স্বপ্নের বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থেই তাঁর এই ১০০টি নারিকেল গাছের চারা একান্ত প্রয়োজন। অনেকের মনে এই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এই অভিনেতা হয়তো বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন এবং সেই হতাশা থেকেই এমন আবেদন করেছেন।

 

তবে বিষয়টি একেবারেই তেমন নয় বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। কাজী উজ্জ্বলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর এই গাছের চারা চাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রতি আরও বেশি সচেতন করে তোলা।

 

ভিডিও বার্তায় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে ১৯৭৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ঐতিহাসিক খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি জানান, সে সময় তিনি কেবল একজন স্কুলপড়ুয়া ছাত্র ছিলেন।

 

সেই ঐতিহাসিক স্মৃতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি কোনো স্বনামধন্য শিল্পী হিসেবে নয়, বরং দেশের একজন সাধারণ নাগরিকের অধিকার থেকেই এই দাবিটি জানাচ্ছেন।

 

বাংলাদেশের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে প্রায় সব জনপ্রিয় নায়কের বাবার চরিত্রে অত্যন্ত সফলভাবে অভিনয় করা এই গুণী শিল্পী আক্ষেপ করে বলেন যে, তিনি মৃত্যুর আগে কারও কাছ থেকে কোনো প্রকার আর্থিক করুণা বা সাহায্য প্রত্যাশা করেন না।

 

তাঁর জীবনের শেষ এবং একমাত্র ঐকান্তিক ইচ্ছা হলো দেশের জনগণের কল্যাণে অন্তত ১০০টি নারিকেল গাছ রোপণ করা। তিনি বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে তিনি এই বাসযোগ্য পৃথিবীর কাছে নিজের জন্মগত ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করে যেতে পারবেন।

 

উল্লেখ্য, অভিনয়জগতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদার্পণের আগে কাজী উজ্জ্বল বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা হিসেবে সুনামের সঙ্গে কর্মরত ছিলেন।

 

গত শতকের আশির দশকে শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসার টানে তিনি সেই চাকরি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়ে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক ও চলচ্চিত্রে নিজের অসামান্য অভিনয়শৈলীর স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি।