বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের সেই অজানা অধ্যায়গুলো জনসমক্ষে তুলে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই নন্দিত অভিনেত্রী। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, বিনোদন জগতে তার আজকের এই সুদৃঢ় অবস্থানের পেছনে বাবার চেয়ে মায়ের অবদানই সর্বাধিক।
অনুষ্ঠানে ফারিণ জানান, সমাজের সাধারণ মানুষ অনেক সময়ই আবেগকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করে। নিজেকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ দাবি করে তিনি বলেন, তিনি সাধারণত নিজের আবেগ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চান না।
তবে মাতৃভক্তির এই বিশেষ দিনে তিনি নিজের অনুভূতি আর আটকে রাখতে পারেননি। তিনি বিনম্র চিত্তে উল্লেখ করেন যে, উপস্থিত সবার মাঝে হয়তো তিনিই কনিষ্ঠতম এবং এত অল্প বয়সে তিনি যে আকাশছোঁয়া সাফল্য অর্জন করেছেন, তা তিনি নিজে কখনো স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি; কিন্তু তার মা সব সময়ই তার এই সফলতার ব্যাপারে দৃঢ়বিশ্বাসী ছিলেন।
ফারিণ স্মৃতিচারণ করে বলেন, শৈশবে তাকে নাচের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তার মাকে বাবার সাথে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছিল। নিজের অভিনয় ও সংগীত জীবনের শুরুর দিকের কথা স্মরণ করে ফারিণ জানান, তার প্রতিটি সাফল্যের নেপথ্যে সম্পূর্ণভাবে তার মায়ের প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে।
স্কুল ও পড়াশোনার চাপের মাঝেও তার মা তাকে কখনো পিছিয়ে পড়তে দেননি। পরীক্ষার চলাকালীন কোনো কাজের সুযোগ এলে তার মা বাবার সাথে তর্ক করে হলেও ফারিণকে সেটি গ্রহণ করতে বলতেন।
তার মায়ের অগাধ বিশ্বাস ছিল যে, মেয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য সৃজনশীল কাজেও সমানভাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে। স্কুল ছুটির পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে মেয়েকে নিয়ে নজরুল একাডেমিতে গানের ক্লাসে যেতেন তিনি।
এমনকি গানের মহড়া চলাকালে রাত দশটা পর্যন্ত স্কুল ড্রেস পরিহিত ফারিণের জন্য বাসা থেকে খাবার নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন এই মমতাময়ী মা। অভিনয় জগতে প্রথম কাজের প্রস্তাব আসার পর মায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় তার মা-ই তাকে অভিনয়ে যুক্ত হতে জোর করেছিলেন।
বস্তুত, ফারিণের ভেতরের সুপ্ত সৃজনশীল সত্তাকে তার মা-ই সর্বপ্রথম চিনতে পেরেছিলেন। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মায়ের এই ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকার বিষয়টি ফারিণকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
বক্তব্যের শেষাংশে এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও আবেগঘন কণ্ঠে বলেন যে, তার মা সব সময় তার জীবনে একটি বিশাল বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে গেছেন এবং এখনো দিচ্ছেন।
মায়ের প্রতি নিজের অগাধ ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি প্রার্থনা করেন, মায়ের মৃত্যুর আগেই যেন তার নিজের মৃত্যু হয়। কারণ, জীবন থেকে মাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার মতো অবর্ণনীয় শোক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা তার নেই।