দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উতরাই পার করা এই অভিনেত্রী সম্প্রতি একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে তার সরাসরি অনুভূতি বিনিময় করেন। সেখানে তিনি মূলত একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, বিয়ে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সমাজের সাধারণ মানুষের অযাচিত কৌতূহল এবং শিষ্টাচার বর্হিভূত আচরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
প্রভার এই বক্তব্য কেবল তার ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং আমাদের সমাজের নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবেও সামনে এসেছে। ভিডিও বার্তার শুরুতেই প্রভা ভক্তদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে শিষ্টাচারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অনেক সময় জনাকীর্ণ স্থান যেমন শপিং মল, রেস্টুরেন্ট কিংবা হাসপাতালে ভক্তদের সঙ্গে দেখা হলে তারা সাধারণ কুশলাদি বিনিময়ের পরিবর্তে হঠাৎ করেই 'কেন বিয়ে করছেন না' এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
অভিনেত্রীর মতে, একজন অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন প্রশ্ন করা কেবল অশোভন নয়, বরং অত্যন্ত বিব্রতকর একটি পরিস্থিতি তৈরি করে।
তিনি মনে করেন, একজন জেনুইন ফ্যান বা অনুরাগী হিসেবে কারো কাজের প্রশংসা করা যতটা স্বাভাবিক, তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা ততটাই অনভিপ্রেত।
বিয়ে ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে প্রভা বলেন যে, জন্ম, মৃত্যু এবং বিয়ে-এই তিনটি বিষয় সৃষ্টিকর্তার হাতে ন্যস্ত। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, তার ভাগ্যে যদি বিয়ে লেখা থাকে, তবে তা সঠিক সময়েই সম্পন্ন হবে; আর যদি না থাকে, তবে মানুষের চাপে বা নিজের ইচ্ছায় জোর করে কিছু করা সম্ভব নয়।
নিজের জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে জানান যে, তার ভেতরের লড়াই বা কষ্টগুলো কেবল ওপরওয়ালাই জানেন এবং পৃথিবীর অন্য কাউকেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন তিনি বোধ করেন না।
সৃষ্টিকর্তার ওপর অগাধ আস্থা রেখে তিনি বলেন, হয়তো তার মঙ্গলের জন্যই অনেক কিছু এখনও অর্জিত হয়নি। এছাড়া সমাজের তথাকথিত আধুনিক জীবনযাত্রা এবং নারীদের আকাঙ্ক্ষা নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করেছেন এই অভিনেত্রী।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাইরে থেকে কাউকে যতটাই আধুনিক বা ক্যারিয়ার সচেতন মনে হোক না কেন, দিনশেষে প্রতিটি নারীই একটি সাজানো সংসার এবং মাতৃত্বের স্বাদ পেতে চায়।
যারা বিষাক্ত সম্পর্ক বা ভাঙা সংসার থেকে ফিরে এসে নতুন করে বাঁচার লড়াই করছে, তাদের এমন সব প্রশ্ন করে মানসিক কষ্ট না দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানান।
প্রভার এই সাহসী এবং ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা আমাদের ব্যক্তিগত শিষ্টাচার ও পরমতসহিষ্ণুতা নিয়ে নতুন করে ভাববার সুযোগ করে দেয়।