শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীমনির অন্তর্জালে ‘প্রথম ক্রাশ’-এর বাঁশির সুর, যে দার্শনিক বার্তায় মুগ্ধ হলেন তিনি

আর এন এস বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

পরীমনির অন্তর্জালে ‘প্রথম ক্রাশ’-এর বাঁশির সুর, যে দার্শনিক বার্তায় মুগ্ধ হলেন তিনি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রূপালি পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। অভিনয়শৈলী ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েনের কারণে তিনি বরাবরই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকেন। তবে রূপালি পর্দার বাইরের মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সাবলীল ও স্পষ্টভাষী।

 

নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দ কিংবা ভালোবাসার কথা অনুরাগীদের কাছে কখনো গোপন করেন না এই তারকা। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে তিনি নিজের একটি উন্মুক্ত ডায়েরি হিসেবেই ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

 

তাঁর জীবনের প্রথম প্রেম কিংবা প্রথম ভালো লাগার মানুষটি কে-তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের যেন কোনো শেষ নেই। যদিও বেশ কয়েক বছর আগেই গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রথম পছন্দের মানুষের নাম প্রকাশ করে সেই দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছিলেন তিনি।

 

সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে নিজের সেই প্রিয় ব্যক্তিত্বের একটি ভিডিও শেয়ার করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই চিত্রনায়িকা।

 

গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেজ থেকে ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা রনিত রায়ের একটি বিশেষ ভিডিও শেয়ার করেছেন পরীমনি।

 

বাংলাদেশ ও ভারতের দর্শকদের কাছে রনিত রায় একটি অত্যন্ত পরিচিত ও সুপরিচিত নাম। শেয়ার করা ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, এই প্রবীণ অভিনেতা অত্যন্ত গভীরভাবে মগ্ন হয়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন।

 

তাঁর সেই ঐন্দ্রজালিক বাঁশির সুর যে কারও হৃদয়কে মুহূর্তের মধ্যেই ছুঁয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে কেবল বাঁশির সুরই নয়, ভিডিওটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া রনিত রায়ের একটি জীবনমুখী ও গভীর দার্শনিক বার্তাই মূলত পরীমনির হৃদয়কে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে।

 

রনিত রায় ওই ভিডিওটি প্রকাশ করে একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও চিন্তাশীল ক্যাপশন লিখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “যাদের ছাড়া আপনি বাঁচতে পারবেন না, তাদেরকেই আপনি তৈরি করছেন আপনাকে ছাড়া বাঁচতে শেখার জন্য।”

 

জীবনের অত্যন্ত রূঢ় বাস্তবতাকে যেন খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। প্রিয় মানুষের বিচ্ছেদ এবং একাকীত্বের এই গভীর মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণটি পরীমনির মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

পছন্দের অভিনেতার মোহনীয় বাঁশির সুর এবং তার সঙ্গে এমন একটি অর্থবহ ও জীবনমুখী ক্যাপশন দেখেই মূলত তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। সেই গভীর মুগ্ধতা থেকেই পরীমনি ভিডিওটি নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমের পাতায় শেয়ার করেছেন এবং ক্যাপশনে অত্যন্ত সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে রনিত রায়ের নাম উল্লেখ করে পাশে একটি লাল রঙের হৃদয় বা লাভ ইমোজি জুড়ে দিয়েছেন।

 

এই ছোট্ট একটি ইমোজি যেন তাঁর সেই পুরনো ভালো লাগারই এক নীরব ও পরিশীলিত প্রকাশ। পরীমনির ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর একাধিক সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার কোনো কমতি নেই।

 

তবে তিনি সব সময়ই এসব আলোচনা-সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে নিজের মতো করে বাঁচতে পছন্দ করেন। অতীতে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তাঁকে জীবনের ‘প্রথম সবকিছু’ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছিল।

 

সেই প্রাণবন্ত আড্ডায় তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তাঁর জীবনের প্রথম আয়, প্রথম সিনেমা মুক্তির অনুভূতি, প্রথম প্রেম এবং প্রথম ক্রাশ সম্পর্কে। সেই অনুষ্ঠানে কোনো রকম রাখঢাক না করেই অত্যন্ত সাবলীলভাবে নিজের প্রথম ক্রাশ হিসেবে ভারতীয় অভিনেতা রনিত রায়ের নাম উচ্চারণ করেছিলেন পরীমনি।

 

রনিত রায় মূলত ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সনি এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জনপ্রিয় ক্রাইম থ্রিলার ধারাবাহিক ‘আদালত’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘কেডি পাঠক’ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন।

 

একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিদীপ্ত ও অপরাজেয় আইনজীবীর চরিত্রে তাঁর সেই অনবদ্য অভিনয় কেবল ভারতেই নয়, বাংলাদেশের অগণিত দর্শকের মনও জয় করেছিল। পরীমনিও সেই অগুনতি ভক্তদেরই একজন, যিনি পর্দার এই রাশভারী মানুষটির ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন।

 

একজন শীর্ষস্থানীয় নায়িকা হওয়ার পরও ভিনদেশি একজন জ্যেষ্ঠ অভিনেতার প্রতি নিজের এই মুগ্ধতা তিনি যেভাবে নির্দ্বিধায় প্রকাশ করেছেন, তা বিনোদন জগতে সচরাচর খুব একটা দেখা যায় না।

 

বিনোদন অঙ্গনের তারকারা সাধারণত নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ভাবমূর্তির গণ্ডিতে আটকে রাখতে পছন্দ করেন। কিন্তু পরীমনি সেই প্রথাগত ছকের একেবারেই বাইরের একজন মানুষ। রূপালি পর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি নেটদুনিয়ায় নিজের ভালো লাগা, খারাপ লাগা এবং আনন্দঘন মুহূর্তগুলো তিনি প্রতিনিয়ত তাঁর অগুনতি অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

 

রনিত রায়ের এই বাঁশি বাজানোর ভিডিও শেয়ার করার মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে, খ্যাতির চূড়ায় অবস্থান করলেও মনের দিক থেকে তিনি এখনও সেই সাধারণ ও আবেগপ্রবণ একজন মানুষই রয়ে গেছেন। তাঁর এই সাবলীলতা ও স্পষ্টবাদিতাই মূলত তাঁকে অন্যান্য তারকাদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা করে রেখেছে।