বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে যাওয়ার পথে আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন তেরো শ’র বেশি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

ইউরোপে যাওয়ার পথে আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন তেরো শ’র বেশি
ছবি: সংগৃহীত

উন্নত ও নিরাপদ জীবনের আশায় ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই স্পেনের উপকূলবর্তী সমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার তিন শরেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী।

 

আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের অত্যন্ত বিপজ্জনক নৌপথ ব্যবহার করে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

 

আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি করা মানবাধিকার সংস্থা ‘কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস’ বুধবার এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে।

 

সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে অন্তত ১,৩১৭ জন মানুষ সাগরে সলিলসমাধির শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে, যা এই সংকটের মানবিক বিপর্যয়কে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

 

এছাড়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী অন্তত ২৭টি নৌকা সমুদ্রে যাত্রা করার পর আরোহীসহ সম্পূর্ণ নিখোঁজ হয়ে গেছে, যাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে খ্রিস্টীয় ধর্মগুরু পোপ লিওর আসন্ন সফরের প্রাক্কালে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো।

 

গত এক দশকে এই অঞ্চলে অনিয়মিত উপায়ে সমুদ্র পারাপারের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে স্পেন সফরকালে পোপ লিও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।

 

তিনি মন্তব্য করেন, নিপীড়িত ও ভাগ্যন্বেষী এই মানুষদের চলমান দুর্দশা বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, ইউরোপের কাছাকাছি থাকা মৌরিতানিয়ার মতো উপকূলীয় দেশগুলোতে সীমান্ত পাহারা ও পারাপার রোধের প্রচেষ্টা জোরদার করায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

 

নিরাপত্তা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এখন আটলান্টিক মহাসাগরের আরও দীর্ঘ, অনাবিষ্কৃত এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন। এই দীর্ঘ যাত্রাপথ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই মূলত সাগরে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালেও স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে ৩ হাজার ৯০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন অথবা চিরতরে নিখোঁজ হয়েছিলেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার বা ৬২ মাইল।

 

এর বাইরেও মরক্কো থেকে স্পেনের মূল ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ভিন্ন পথ রয়েছে, যেখানে প্রায়ই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সাঁতরে বা ছোট নৌকায় পার হওয়ার মরণপণ চেষ্টা চালান। কিন্তু আন্তর্জাতিক নীতিমালার কড়াকড়ি এবং নিরাপদ রুটের অভাবে এই পথগুলো ক্রমান্বয়ে সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হচ্ছে।

 

- রয়টার্স