আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সহিংস আন্দোলনকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও আবাসিক ভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে, যার ফলে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে অনেকেই মুখমণ্ডল মুখোশে আবৃত করে রেখেছিলেন।
একপর্যায়ে উগ্র জনতা চরম উগ্র হয়ে ওঠে এবং একটি যাত্রীবাহী বাস ও বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সাথে শহরের কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী একটি ভবনেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীরা প্রথমে রাস্তার পাশে থাকা বর্জ্যের পাত্রগুলোতে আগুন ধরায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করতে শুরু করে।
বেলফাস্টের এই সহিংসতা কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা দ্রুত পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। বেলফাস্ট থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত অ্যানট্রিম এলাকাতেও স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
এই আকস্মিক ও ভয়াবহ সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নিল। তিনি সাধারণ জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সম্পূর্ণ শান্ত থাকার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, মুখোশধারী কিছু মানুষের দল সাধারণ পরিবারগুলোকে তাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগুন লাগাচ্ছে, যা জঘন্য কাপুরুষতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, বর্ণবাদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা যেখানেই ঘটুক না কেন, তা সম্পূর্ণ অন্যায় এবং সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
রাতের অন্ধকারে চালানো এসব অতর্কিত হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট অজুহাত বা যৌক্তিকতা থাকতে পারে না এবং দেশের কোনো নাগরিকই নিজেদের রাস্তায় এমন অস্থিতিশীল ও ভীতিকর পরিস্থিতি দেখতে চায় না।
মূল ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোমবার রাতের ওই নৃশংস ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তি অত্যন্ত গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত একটি ধারালো ছুরি দিয়ে ভুক্তভোগীর চোখে উপর্যুপরি আঘাত করা হয় এবং তার মুখমণ্ডল ও পিঠে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করা হয়।
এই বর্বরোচিত হামলার কারণে ভুক্তভোগী ব্যক্তি ইতিমধ্যে তাঁর বাম চোখটি হারিয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ এক ত্রিশ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আটককৃত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যাচেষ্টা, জনসমক্ষে বিপজ্জনক ধারালো অস্ত্র বহন এবং অন্যকে হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে।