শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ছবি : Collected

ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজকে দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

 

একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর দেশত্যাগের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শনিবার স্পেনের একটি আদালত এই যুগান্তকারী ও চাঞ্চল্যকর নির্দেশ প্রদান করেছেন বলে স্বনামধন্য ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির একটি বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

এই ঘটনা স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আদালতের আনুষ্ঠানিক রায়ে বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাতো অভিযুক্ত বেগোনা গোমেজকে অবিলম্বে তাঁর পাসপোর্ট আদালতের জিম্মায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

শুধু তা-ই নয়, এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে অন্তত দুবার তাঁকে নিয়ম করে আদালতে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। গোমেজ যাতে কোনোভাবেই দেশত্যাগের এই আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে আদালত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

 

এই লক্ষ্যে স্পেনের সকল সীমান্ত চৌকি এবং বেসামরিক ও সামরিক বিমানবন্দরগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ও জরুরি নির্দেশনা জারি করার কথা বলা হয়েছে।

 

স্পেনের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ এই বিচারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম কবে থেকে শুরু হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনও আদালতের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়নি।

 

তবে এর আগে গত এপ্রিলে বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাতো আনুষ্ঠানিকভাবে বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যবসায়িক লেনদেনে বেআইনি দুর্নীতি এবং সরকারি ও বেসরকারি তহবিলের অপব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।

 

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে গোমেজ নিজের উচ্চ পদমর্যাদাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে ব্যবহার করেছিলেন কি না, মূলত তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখার জন্যই চলতি বছরের এপ্রিলে এই বিচারিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছিল।

 

মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়েছে, বেগোনা গোমেজ নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা খাটিয়ে মাদ্রিদের স্বনামধন্য কমপ্লুটেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ অধ্যাপকের একটি পদ গঠন ও পরিচালনা করেছেন।

 

তিনি নিজেই ওই বিশেষ পদের সহ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক ও অন্যান্য স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

 

তবে বেগোনা গোমেজ শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের বেআইনি বা অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত নন।

 

অন্যদিকে, স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও হেয় করার জন্য দেশটির ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্পেনের বিরোধী দলগুলো অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

 

- এএফপি